দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি ছবিকে ঘিরে আইনি জটিলতায় জড়ালেন ধনুষ। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া সেই প্রোজেক্ট এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রযোজনা সংস্থা থেনানডাল ফিল্মস তাঁর কাছে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিস পাঠিয়েছে। সংস্থার অভিযোগ, ছবিটি তৈরি করতে এত সময় লাগার কারণে তাদের বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তাই হয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছবিটি শেষ করতে হবে, না হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বিতর্কিত ছবির নাম ‘নান রুদ্রান’। এই ছবিতে ধনুষের পরিচালনা ও অভিনয়, দু’টিরই দায়িত্ব ছিল। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, ধনুষ নাকি এই ছবির কাজ এগিয়ে না নিয়ে অন্য ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এমনকি সময়মতো পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্যও জমা দেননি বলে অভিযোগ। সংস্থার দাবি, এস জে সূর্য এবং নাগার্জুন আক্কিনেনি-সহ একাধিক শিল্পীকে পারিশ্রমিক দেওয়া হলেও ছবির কাজ আংশিক অবস্থাতেই থেমে রয়েছে।

থেনানডাল ফিল্মসের আইনজীবীর পাঠানো নোটিসে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ছবিটি সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় মোট ২১ কোটি টাকা (২০ কোটি মূল দাবি ও অতিরিক্ত ১ কোটি ক্ষতিপূরণ) পরিশোধ করতে হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব না পেলে আরও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, এই বিলম্বে তাদের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত এই নোটিস নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি ধনুষ। বর্তমানে তিনি একাধিক প্রোজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত। যার মধ্যে রয়েছে তাঁর আসন্ন ছবি ‘কারা’ ও ‘ডি৫৫’। তবে এই আইনি লড়াই কীভাবে মেটাবে, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে অনুরাগী ও চলচ্চিত্র মহলে।

ধনুষ দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, নির্মাতা ও গায়ক। তামিল সিনেমায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ‘থুল্লুভাধো ইলামাই’ ছবির মাধ্যমে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজনা ও পরিচালনাতেও সাফল্য পেয়েছেন। ‘আসুরান’, ‘ভেলাইইল্লা পট্টাধারি’ এবং বলিউডের ‘রাঞ্ঝনা’-য় তাঁর অভিনয় বিশেষ প্রশংসিত। ‘কোলাভেরি ডি’ গানটি বিরাট জনপ্রিয়তা এনে দেয় তাঁকে।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বরাবরই আলোচনায় থেকেছেন ধনুষ। ২০০৪ সালে তিনি বিয়ে করেন ঐশ্বর্যা রজনীকান্তকে। তিনি কিংবদন্তি অভিনেতা রজনীকান্তের জ্যেষ্ঠ কন্যা। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০২২ সালে পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।  ব্যক্তিগত জীবন তিনি আড়ালেই রাখেন। অযথা প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন অভিনেতা।