এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০২৫ সালে আবারও বড়পর্দায় ফিরেছিল ‘দেশু’ জুটি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩-১৪ এর মধ্যে পাঁচটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন দেব এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। বলাই বাহুল্য, এই যুগের বাংলার ছবির অন্যতম হিট এবং আইকনিক অনস্ক্রিন জুটি ছিল তাঁদের। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন দু’জনের দুই ভিন্ন খাতে বয়ে যাওয়ার পর আর একসঙ্গে কাজ করেননি। কিন্তু গত বছর ‘ধূমকেতু’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকদের মধ্যে যে উন্মাদনা দেখা যায়, ছবিটি বক্স অফিসে যেভাবে ব্যবসা করে তারপর আবারও ২০২৬ সালে নতুন ভাবে ফিরছে সেই জুটি। আবারও এত বছর পর একসঙ্গে কাজ করতে চলেছেন দেব এবং শুভশ্রী। সে ছবির ঘোষণা হওয়ামাত্রই বাংলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। এদিন প্রাক-ঘোষণার মতোই ফেসবুক লাইভ প্রথমবার একসঙ্গে এলেন দেব এবং শুভশ্রী।
ফেসবুক লাইভ শুরু হতেই দেখা গেল, একটি ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে পাশাপাশি দু’জন বসে রয়েছেন দেব-শুভশ্রী। পিছনে দেখা যাচ্ছে সারি সারি ফাঁকা আসন এবং জ্বলজ্বল করছে স্পটলাইট। তার-ই আলোতে দেখা গেল হাসিমুখে পরস্পরের সঙ্গে খুনসুটি করতে করতেই নেটিজেনদের সঙ্গে সরাসরি আড্ডা দিতে শুরু করলেন দেব-শুভশ্রী।
দেব প্রথমেই বলে উঠলেন, আজকে একটি বিশেষ দিন আমাদের কাছে। আমাদের এই আসন্ন ছবি নিয়ে সত্যিই খুবই উত্তেজিত আমরা। কেন আজকে এই অনুষ্ঠানটি করার জন্য প্রেক্ষাগৃহর অন্দর বাছাই করে নিলাম আমরা? কেন এই অনুষ্ঠানটার আয়োজন কোনও অফিসে করছি না? কারণ একটাই। এই প্রেক্ষাগৃহ থেকেই তৈরি হয় তারকা, তৈরি হয় পরিচালক, কলাকুশলীরা...” কথার মাঝখানেই পাশ থেকে শুভশ্রী বলে উঠলেন – “আর এই প্রেক্ষাগৃহ আমাদের প্রত্যেকেরই যাত্রা শুরু হয়” বলে উঠলেন শুভশ্রী। সেই কথার রেশ টেনে দেব ফের শুরু করলেন, “হ্যাঁ, এখান থেকেই সিনেমা শুরু হয়। সেইজন্যেই এখন থেকেই জুটি তৈরি হয়েছে, আর তাই ঠিক সেখানেই ফিরে এলাম আমরা।”
খানিক থেমে আবেগমথিত গলায় দেব বললেন, “আসলে, প্ৰেক্ষাগৃহে আমাদের জন্য খুব আবেগের জায়গা। কারণ এখানেই দর্শকের সঙ্গে আমাদের সরাসরি সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। চ্যালেঞ্জ -এর সময় এই হলেই বসেই দর্শকরা আমাদের প্রথমবার দেখেছিল। আজকে প্রেক্ষাগৃহ হয়তো ফাঁকা কিন্তু লড়াইটা হয় যখন এটা ভর্তি থাকে।” এরপরেই দেবের উদ্দেশ্যে শুভশ্রীর প্রশ্ন ভেসে আসে – “এই যে, ‘দেশু সেভেন’ ছবিটা…এই ভাবনাটা হল কী করে? আরও একটি প্রশ্ন, দেব তোমার এ বছরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ছবির জন্য আমার কাছেই কেন ফোনটা এল?” শোনামাত্রই উত্তরের বদলে হাসতে হাসতে দেবের পাল্টা প্রশ্ন, “তোমাকে কে বলেছে এটা আমার সবথেকে স্পেশ্যাল? শুভশ্রীর চটপট জবাব, “চুপ করো! সবাই জানে।” শোনামাত্রই দেব শুভশ্রীর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, “অনেকগুলো কারণে এই ছবিটা স্পেশ্যাল! আসলে তুমি এই ছবিতে থাকতেই, তুমি আসাতেই স্পেশ্যাল হয়েছে এই ছবিটা। আসলে আমি, আমার টিম সবাই চাইত এই আমাদের এই জুটির ছবিটা হোক। আমি কিন্তু ভেবেছিলাম হবে না। কিন্তু তারপর এমন পরিস্থিতি এল যে এই লড়াইয়ে জিততে গেলে তোমাকে চাই, এই লড়াইয়ে শুভশ্রীকে পাশে চাই। অতএব!” দেবের দিকে তখন একদৃষ্টে তাকিয়ে শুভশ্রী। অভিনেত্রীর ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠেছে স্মিত হাসি।
দেব এরপর আরও জানালেন, আমি যখন শুভশ্রীকে এই ছবির জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তখন ও থাইল্যান্ডে ছিল। ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে ৩০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল শুভশ্রী ‘হ্যাঁ’ বলতে। ওকে বলেছিলাম, এখনও গল্প ঠিক হয়নি, চিত্রনাট্য নেই আর ছবির পরিচালক আমি! ব্যস এটুকুই!”
এরপর মুখ খুললেন শুভশ্রী, - “কেন হ্যাঁ বললাম দেবকে? ‘নট সো ইনোসেন্ট ফেস’-এর কাছে যখন ফোনটা এল তখনই বুঝেছি, নিশ্চয়ই যুদ্ধে নামতে হবে। অনেক যুদ্ধ-ই দেখেছি। না হয় এটাতেও সঙ্গে দিলাম। আর যুদ্ধ থাকাটাও খুব জরুরি। আগামী প্রজন্মকে বলার জন্য যুদ্ধ করাটা খুব জরুরি। দেব-ও আবেগতাড়িত স্বরে বলে ওঠেন, “ ‘খোকাবাবু’, ‘রোমিও’, ‘খোকা ৪২০’-এর মতো সব ছবিতে যখন আমরা কাজ করেছি যখন শুভশ্রীর সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির কেউ কাজ করছিল না। আমরা কিন্তু দেখিয়ে দিয়েছিলাম। প্রতিটি ছবি সুপারহিট হয়েছিল।”
এরপরেই ইন্ডাস্ট্রির উদ্দেশ্যে কারও নাম না তুলে দেব বলে উঠলেন, “আমরা লড়াইটা করছি দর্শক ধরে রাখার জন্য, প্রেক্ষেগৃহ ভরানোর জন্য। এখনকার লড়াইটা হচ্ছে আগলে রাখা। আর নেতা কাকে বলে? যে দু’বেলা ভাতের যোগান দেয়, মুখের গ্রাস না কেড়ে নেয়... সবাই যেন শান্তিভাবে মিলেমিশে প্রাণ খুলে বাঁচে, সেটাই একজন নেতার দেখা উচিত। তাই না?”
তা কেমন হবে এই ‘দেশু সেভেন’? কোন ঘরানার ছবি হবে? নাম-ই বা কী হবে? জুটিতে জবাব এল, “একটু ঝাল-নুন-মিষ্টি থাকবে। সবরকম স্বাদ থাকবে। ‘দেশু ৭’ রোমান্টিক-অ্যাকশন-রিভেঞ্জ থ্রিলার ড্রামা!” এবার পালা দেবের ।অভিনেতা-প্রযোজকের তরফে আরও জানা গেল, “৮-১০ জন মিলে এই ছবির চিত্রনাট্য লিখছে। মানুষকে ঠকাতে চাইছি না আমরা। আমাদের জন্য যে উন্মাদনা দর্শকের সেটা তো আমাদের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ। নাম নিয়ে এখনও চিন্তাভাবনা চলছে। মাথায় চলছেও অনেককিছু। ১লা বৈশাখে আবার আসব লাইভে। সেদিন পুরো ছবির কাস্টিং নিয়ে ঘোষণা করব।”
কথাশেষে দেব-শুভশ্রীর আর্তি, “চলুন, বাংলা ছবিকে উদযাপন করি!”
