জি বাংলার আসন্ন ধারাবাহিক 'সতীপীঠ কালীঘাট' ও এর প্রযোজক সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন লেখিকা দেবারতি মুখার্জি। সমাজমাধ্যমে এক বিস্ফোরক পোস্টে তিনি লেখেন, 'বহুদিন চুপ ছিলাম। একে নানাদিকে নানারকম ব্যস্ততা, আর ভেবেছিলাম, লিখিত প্রতিশ্রুতি, পেশাদার সম্পর্ক, দেওয়া কথা এবং ন্যূনতম সততার তো একটা মূল্য আছে। কিন্তু আর চুপ থাকা সম্ভব নয়! জি বাংলায় 'কালীঘাট' নিয়ে একটি ঐতিহাসিক সিরিয়ালের জন্য ৯ মে ২০২৬ তারিখে ওই সিরিয়ালের প্রযোজক সুব্রত রায় তাঁর Roycineworks Pvt. Ltd.-এর পক্ষ থেকে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে Storywriter হিসেবে আমন্ত্রণ জানান। আমি নিজে থেকে কোনদিনও কোন প্রযোজনা সংস্থার দরজায় গিয়ে কাজ চাইনি। আমায় যেচে ডাকা হয়েছিল।' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)
তিনি আরও লেখেন, '১৫ মে ২০২৬ আমি channel meeting-এর জন্য আগামী একবছরের written story material জমা দিই। কিন্তু গোটা গল্প পাঠানোর পরই ম্যাজিক! সুব্রত রায় সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বলা হয়, 'চ্যানেল দেখছে।' আর তারপর শুরু হয় date after date। শেষপর্যন্ত আমি জি-তে জানাই, তাদের পক্ষ থেকে চাপাচাপির পর আমাকে একবার অনলাইন ট্রান্সফার, একবার অন্য কিছু নানারকম টালবাহানার পর বলা হয় 'এসে চেক নিয়ে যেতে হবে।' বহুদূর থেকে আমায় একটি cheque নিয়ে আসতে হয়, এনে দেখি সেটা post dated cheque, তিনদিন পরের ডেট। তবুও আমি সেই cheque-এর date আসা পর্যন্ত good faith-এ অপেক্ষা করি। আজ cheque জমা করার পর রিটার্ন আসে, reason “Funds Insufficient”। আমি বহুদিন চুপ থেকেছি। যথেষ্ট হয়েছে। এত কাজের মধ্যে প্রতিদিন এই নিয়ে খোঁচানো সম্ভব নয়। লেখকদের সঙ্গে এই প্রতারণা দীর্ঘকাল ধরে চলছে। লিখিত এগ্রিমেন্টের পরেও একজন লেখকের শ্রম, কল্পনা, গবেষণা, গল্প, চরিত্র এবং সৃষ্টির অধিকারকে এভাবে অস্বীকার করা যায় না। আমরা ঠকছি, ভবিষ্যতেও ঠকব, কিন্তু মানুষ অন্তত সত্যিটা জানুক!' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)
এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে আজকাল ডট ইন-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল প্রযোজক সুব্রত রায়ের সঙ্গে। তাঁর কথায়, "দেবারতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল আমার পক্ষ থেকে। তারপর ও যে লেখাটা পাঠায় সেটা আমার পছন্দ হয়নি। এরপর ওঁকে আবার একটা নতুন লেখা পাঠাতে বলা হয়, সেটাও আমার একেবারেই পছন্দ হয়নি। আমি তখন অন্য রাইটার খুঁজছি। এতগুলো ভাল শো করেছি, রাসমণি, দেবী চৌধুরানীর পর কালীঘাটের ইতিকথা তুলে ধরতাম তাই মনের মতো লেখা পাওয়াটা জরুরি ছিল। যখন অন্য রাইটার খুঁজছি তখন হঠাৎ উনি বলেন ওঁকে পারিশ্রমিক দিতে হবে। আমি অবাক হয়ে যাই। যে স্ক্রিপ্ট আমি কাজেই লাগাইনি তার জন্য টাকা কেন দেব? উনি তো এত লেখালিখি করেন, বই লিখে সেটা যদি বের করতে না পারেন তাহলে কি পাবলিশারদের থেকেও টাকা চান? কিন্তু আমি মহিলা বলে তর্ক করতে চাইনি। উনি দু'লক্ষ টাকা দাবি করেন। পরে সেটা এক লক্ষ টাকায় আসেন। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি উনি প্রেসার দিয়ে এভাবেই টাকা আদায় করেন। আমি চাপে পড়ে টাকাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু চেক বাউন্স করে। এসব পুরোটাই আমার কাছে মেলে নথিভুক্ত আছে। আমার একটা ভুল হয়ে গিয়েছে চাপে পড়ে, আর পরবর্তীতে কোনও উটকো ঝামেলার ভয়ে ওঁকে টাকাটা দিতে রাজি হওয়া। আমি ওঁর স্পর্ধা দেখে আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি।"















