দুই বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী অভিনয়ের ব্যস্ততা সামলে বরাবরই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালবাসেন। বিশেষ করে ওঁর মা এবং প্রয়াত বাবার প্রতি ওঁর আবেগ ও ভালবাসার কথা সর্বজনবিদিত। সম্প্রতি ওঁর জীবনের এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং পারিবারিক মুহূর্ত সমাজমাধ্যমের পাতায় ভাগ করে নিলেন অভিনেতা। বাবা চলে যাওয়ার পর অনেকদিন পর চঞ্চল চৌধুরী এবং তাঁর সব ভাই-বোনেরা একসঙ্গে তাঁদের মায়ের সঙ্গে জীবনের কিছু সেরা মুহূর্ত কাটালেন, যা অভিনেতাকে একইসঙ্গে আনন্দিত ও স্মৃতিকাতর করে তুলেছে।

ফেসবুকে নিজের প্রোফাইল থেকে পরিবারের একটি সুন্দর ছবি শেয়ার করে চঞ্চল চৌধুরী এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট লেখেন, যা থেকে স্পষ্ট ২০২২ সালে চঞ্চল চৌধুরীর বাবা রাধাগোবিন্দ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকে ওঁর মা খানিক একাকীত্বকে সঙ্গী করেই দিন কাটাচ্ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর সব ভাই-বোন একসঙ্গে হওয়ায় মায়ের সেই একাকীত্ব নিমেষের মধ্যে কেটে যায়।

মায়ের সেই আনন্দের মুহূর্তের কথা জানিয়ে চঞ্চল চৌধুরী ফেসবুকে লেখেন, “অনেকদিন পর আমরা আট ভাই-বোন একসাথে মায়ের সঙ্গে কয়দিন সময় কাটালাম!!! বাবা চলে যাবার পর অনেকদিন সব ভাইবোন একসাথে হওয়া হয়নি!!! মেয়ে-জামাই, ছেলে-বৌমা, নাতি-নাতনি… সবাইকে কাছে পেয়ে, মা যেন আনন্দ সাগরে ভাসলো কয়টা দিন!”

পরিবারের চার প্রজন্মকে একসাথে কাছে পেয়ে মা চওড়া হাসিতে মেতে উঠলেও, সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা দীর্ঘ ৭০ বছরের এক সুগভীর ভালবাসার অভাব বারবার ধরা পড়েছে ওঁর চোখে। চঞ্চল চৌধুরী ওঁর পোস্টে বাবা-মায়ের সেই চিরন্তন ভালোবাসার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, “এত আনন্দের ভেতরেও মায়ের চোখে মাঝে মাঝেই জল দেখেছি বাবার জন্যব। ভাবা যায়…??!! ৭০ বছর সুখে-দুঃখে একসাথে জীবন কাটিয়েছে আমাদের বাবা-মা!!! এরপর…বাবা চলে গেলো ২২ সালে!! তারপর মা একা!!!”

 

মায়ের এই নীরব কান্না আর বাবার অনুপস্থিতি চঞ্চলকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। পোস্টের শেষে কবিগুরুর গানের লাইন ধার করে অভিনেতা ওঁর বাবার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখেন— “বাবা, তুমি রবে নীরবে!”

চঞ্চল চৌধুরীর এই মন ছুঁয়ে যাওয়া পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে নেটপাড়ায় ভাইরাল। অভিনেতার বাবা চলে যাওয়ার পর তাঁর মায়ের এই একাকীত্ব দেখে দুই বাংলার হাজার হাজার অনুরাগী ও সহ-শিল্পীরা কমেন্ট বক্সে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতে কার্পণ্য বোধ করেননি। সেই সঙ্গে চঞ্চলকে ভরিয়ে দিয়েছেন ভালবাসায়। 

কেউ চঞ্চল চৌধুরীর মায়ের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করেছেন, আবার কেউ লিখেছেন যে সত্যিকারের ভালবাসা এমনই হয়, যা বহু বছর একসঙ্গে কাটানোর পরও এক মুহূর্তের জন্য ম্লান হয় না। ব্যস্ত দুনিয়ায় পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব সামলে ভাই-বোনদের নিয়ে মায়ের মুখে এই হাসি ফোটানোর জন্য চঞ্চল চৌধুরীর এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন ওঁর ভক্তরা।