মুম্বইয়ের গ্রান্ট রোড সংলগ্ন গিঁড়গাঁও এলাকার একটি নামি হোটেলে হানা দিয়ে এক হাই-প্রোফাইল মধুচক্রের পর্দা ফাঁস করল মুম্বই পুলিশ। এই ঘটনায় সিনেমা জগতের দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই চক্রে এক-এক রাতের জন্য প্রতি অভিনেত্রীর দর হাঁকা হয়েছিল ১ লক্ষ টাকা করে! অর্থাৎ এক রাতেই মোট ২ লক্ষ টাকার লেনদেনের চুক্তি হয়েছিল।
এই মধুচক্র চালানোর অভিযোগে বিনোদন দুনিয়ার এক নামি সেলিব্রিটি মেকআপ আর্টিস্টকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওঁর বিরুদ্ধে কাজের লোভ দেখিয়ে এই নারীদের ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। মুম্বই পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া দুই অভিনেত্রীর মধ্যে একজন মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ এলাকার জনপ্রিয় মারাঠি অভিনেত্রী। অন্যজন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি অভিনেত্রী, যিনি ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বলিউড প্রজেক্ট এবং হিন্দি টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন।
অভিযুক্ত মেকআপ আর্টিস্ট এই দুই অভিনেত্রীকে সিনেমা ও বড় প্রজেক্টে ভাল কাজের সুযোগ দেওয়ার টোপ দিয়ে মুম্বইয়ে ডেকে এনেছিলেন। এরপর ওঁদের আড়ালে গ্রাহকদের সঙ্গে মোটা টাকার এই চুক্তি চূড়ান্ত করেন তিনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ নির্দিষ্ট সময়ে ওই হোটেলে ছদ্মবেশী গ্রাহক পাঠিয়ে হাতেনাতে এই চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করে এবং দুই অভিনেত্রীকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পাঠায়।
ধৃত মেকআপ আর্টিস্টের এই ডিল বা নেটওয়ার্কের পেছনে কোনও বড় মানব পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত জারি রয়েছে। মুম্বই পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এর আগেও এই মেকআপ আর্টিস্ট বিনোদন জগতের আর কোনও উঠতি মডেল বা অভিনেত্রীকে এভাবে বিপথে ঠেলে দিয়েছেন কি না, তা জানার জন্য ওঁর ফোন রেকর্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
আপাতত পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই এই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ধৃত অভিযুক্তকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এই ঘটনায় টলিউড থেকে বলিউড— গ্ল্যামার দুনিয়ার অন্ধকারের আরও এক কুৎসিত রূপ নতুন করে সামনে চলে এল।














