বাংলা ছবিতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত। ‘ফণিবাবু ভাইরাল’ ছবির সাফল্যের পর পরিচালক হিসেবে নিজের দ্বিতীয় ছবি নিয়ে ফিরছেন অভিনেতা-পরিচালক রাজু মজুমদার। তাঁর আসন্ন ছবি ‘ব্ল্যাক কফি’ একটি ক্রাইম থ্রিলার, যার প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন আদিত্য অশোক, আদিকা প্রোডাকশন্স-এর সংস্থা।‘ব্ল্যাক কফি’র অন্যতম চমক হল সম্পূর্ণ নতুন মুখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে । ইন্ডাস্ট্রিতে একঝাঁক নতুন প্রতিভাকে তুলে আনার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা।

 ‘ব্ল্যাক কফি’র গল্প জুড়ে রয়েছে অন্ধকার, প্রেম আর প্রতিশোধের ছায়া। গল্পটা অনেকটা এরকম -কলকাতার উপকণ্ঠে গড়ে ওঠা এক উপনগরী, যেখানে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন, সম্পর্ক আর রাজনীতির সমীকরণ। সেই আবহেই উঠে আসে প্রলয় ঘোষের গল্প - এক সাধারণ ঘরের ছেলে থেকে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠা এক জমি মাফিয়া। তার পাশে ছেলে রন, যিনি বাবার সাম্রাজ্যের অন্যতম সহযোগী।ক্ষমতা যত বাড়ে, শত্রুও তত বাড়ে। কিন্তু বুদ্ধি আর প্রভাবের জোরে প্রলয়-রনের উত্থান থামে না।ঠিক এই সময় রনের জীবনে আসে প্রিয়া। প্রেমের টানে রন ছেড়ে দেয় অন্ধকার জগত, চলে যায় পাহাড়ে। প্রিয়াকে বিয়ে করে শুরু করে এক সাধারণ জীবন। খুলে ফেলে একটি কফি শপ, নাম ‘ব্ল্যাক কফি’।কিন্তু গল্পে মোড় আসে হঠাৎই। শত্রুপক্ষের হাতে খুন হন প্রলয়। আর সেই মুহূর্তেই রনের জীবনে ফিরে আসে পুরনো অন্ধকার। প্রতিশোধের তীব্র আগুনে জ্বলে ওঠে সে।প্রেম বনাম প্রতিশোধ। এই টানাপোড়েনে রন-প্রিয়ার সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? একে একে কীভাবে শত্রুদের শেষ করে রন? শেষ পর্যন্ত কি ফিরে পাবে নিজের ভালবাসা? এই প্রশ্নগুলোকেই কেন্দ্র করে এগোবে ছবির গল্প।


পরিচালক রাজু মজুমদারের কথায়,“‘ব্ল্যাক কফি’ শুধু ক্রাইম থ্রিলার নয়, আমাদের চারপাশের লুকিয়ে থাকা বাস্তবতার গল্প। এই ছবিতে আমি আরও তীব্র, আরও গভীর এক আবেগ ধরতে চেয়েছি, যা দর্শককে শুধু উত্তেজিতই করবে না, ভাবতেও বাধ্য করবে।” তিনি আরও জানান, নতুন মুখদের নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত ছিল সচেতন। তাঁর বিশ্বাস, নতুন প্রতিভাকেই সামনে আনলেই ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাবে।

 


অপরাধ, রাজনীতি, প্রেম, প্রতিশোধ—সব মিলিয়ে ‘ব্ল্যাক কফি’ হতে চলেছে এক অন্যরকম, বহুস্তরীয় গল্প। যা এক কাপ ব্ল্যাক কফির মতোই তিক্ত, শক্তিশালী এবং নির্ভেজাল। এখন অপেক্ষা, দর্শক এই নতুন স্বাদ কতটা গ্রহণ করেন।