রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একজোট হয়েছে টলিউড। প্রয়াত অভিনেতার মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি, অভিনেতা-অভিনেত্রী, টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা চেয়ে বারংবার বৈঠক করেছেন। পথ খুঁজে বের করেছেন। তবুও এসবের মাঝে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে অনেকেই কটাক্ষ, বিদ্রুপ করেছেন। এবার এই বিষয়ে 'ইন্ডাস্ট্রি'র পাশে দাঁড়ালেন পরিচালক বিরসা দাশগুপ্ত। কী লিখলেন? 

বিরসা দাশগুপ্ত এদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে ফেসবুকে লেখেন, 'বুম্বাদার দিকে আঙুল তোলার আগে থামুন। যা গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়োজনীয়, যিনি কাজ করেন সবসময় সেটা লোক দেখিয়ে, শব্দ করে করবে এমন কোনও বিষয় নেই। উনি যা করেছেন এবং এখনও করে যাচ্ছেন আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য তার কী ওজন সেটা আপনারা কখনই দেখতে বা জানতে পারবেন না।' 

বিরসা এদিন আরও লেখেন, 'সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে উনি রাহুলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন যাতে তাঁরা সত্যিটা জানতে পারেন তাঁদের প্রিয়জনের মৃত্যুর বিষয়ে। কোনও স্পটলাইট নেই, কোনও এজেন্ডা নেই, যা সঠিক কেবল তার পাশে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছেন। ওঁর কোনও ভ্যালিডেশনের প্রয়োজন নেই। উনি একজোট হওয়ার প্রতিমূর্তি। তিনি সবসময় সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর সেই কারণেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভাগ্যবান যে ওঁকে পেয়েছি। উনি কেবল কলিগ নন, আমাদের গাইডিং ফোর্স।' 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ৪ মে রাজ্যে পালা বদল হয়েছে। শিবপুর  বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তারপরই তিনি ফোন করেন ইন্ডাস্ট্রির 'জ্যেষ্ঠ পুত্র'কে। এরপরই জলঘোলা শুরু হয় তবে কি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যাচ্ছেন? ঠিক যেমন নির্বাচনের আগে তাঁর ছেলে মিশুকের পোস্ট দেখে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে গোটা বিষয়টা নস্যাৎ করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে অভিনয় করে আসছি এবং আগামীদিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ— দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না। আমি কাউকে ফোন করিনি; বরং আমার ছোট ভাই ফোন করেছিল আমাকে। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি কেবল সেই টুকুই পালন করেছি। এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগসূত্র নেই।' (পোস্টদাতার বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হল)