গ্র্যান্ড ফিনালের ঠিক আগমুহূর্তে বড় ঝাঁকুনি ‘বিগ বস’ সিজন ১৯-এ। ‘বিগ বস’-এর ঘরের অন্য প্রতিযোগীকে গায়ে আঘাত করার অভিযোগে শো থেকে বহিষ্কৃত হলেন প্রতিযোগী অশনূর। টিকিট টু ফিনালে টাস্ক চলাকালীন সহ-প্রতিযোগী তানিয়া মিত্তালকে কাঠের তক্তা দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় এই কড়া সিদ্ধান্ত নিল শো কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটে গুরুত্বপূর্ণ ‘টিকিট টু ফিনালে’ টাস্কের সময়। উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার মধ্যেই আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তানিয়ার দিকে কাঠের তক্তা ছুড়ে মারেন অশনূর। বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয় বাড়ির ভিতরে, আর শেষমেশ ‘উইকএন্ড কা ভার’ পর্বে বিষয়টি সরাসরি তোলেন সঞ্চালক সলমন খান।
সলমনের প্রশ্নের মুখে অশনূর দাবি করেন, তানিয়াকে আঘাত করার কোনও ইচ্ছেই তাঁর ছিল না। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত। কিন্তু তখনই কর্তৃপক্ষ টাস্কের ভিডিও ফুটেজ দেখায়, যা দেখে সলমন স্পষ্ট করেন, ওই মুহূর্তে অশনূরের কাজটি দুর্ঘটনা নয়, বরং রাগের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে হয়েছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে শোয়ের নির্মাতারা জানিয়ে দেন, শারীরিকভাবে হিংসা প্রকাশ কোনও অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর সেই কারণেই অশনূরকে শো থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে সেই মুহূর্তেই। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই ভেঙে পড়েন অশনূর। চোখের জল সামলাতে না পেরে তিনি বলেন, তানিয়া সত্যিই আহত হয়েছেন, এমনটা তিনি বিশ্বাসই করেননি। শো ছাড়তে চান না বলেও জানান আবেগতাড়িত অশনূর।
'বিগ বস'-এর ঘরে অশনূরের যাত্রা বরাবরই বিতর্কে ঘেরা ছিল। অনেকের মতে, তাঁর গেমপ্লে অনেকটাই প্রভাবিত ছিল আগে বাদ পড়া প্রতিযোগী অভিষেক বাজাজ-এর দ্বারা। এমনকী ফ্যামিলি উইক-এ এসে তাঁর বাবা অশনূরকে নিজের হয়ে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। বিশেষ করে তানিয়া মিত্তাল, নীলম গিরি ও কুনিকা সাদানন্দের করা ‘বডি শেমিং’ সংক্রান্ত মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কথাও বলেন তিনি।
অশনূরের বিদায়ের পর এখন ‘বিগ বস’-এর ট্রফি জেতার দৌড়ে রইলেন তানিয়া মিত্তাল, আমাল মাল্লিক, ফারহানা ভাট, মালতী চাহার, গৌরব খান্না, প্রণীত মোরে এবং শেহবাজ বদেশা। গ্র্যান্ড ফিনালের আগে ঘর যে এখন আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, সে কথা বলাই বাহুল্য।
অন্যদিকে, ‘উইকএন্ড কা ভার’–এ তাঁর ভালবাসার মানুষ ‘ধরম পাজি’কে স্মরণ করতে গিয়ে ভেঙে পড়লেন সলমন খান। শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বারবার গলা ভারী হয়ে আসে সলমনের। ধরে আসা কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই সপ্তাহটা ছিল ব্যথায় ভরা। প্রার্থনা আর অশ্রুতেই কেটে গিয়েছে। দেশ বড় ধাক্কা খেয়েছে। ভক্তরা কাঁদছে। ইন্ডাস্ট্রি শোকে ডুবে আছে।”
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণ শুধু বলিউড নয়, সলমনের হৃদয়েও গভীর শূন্যতা রেখে গিয়েছে। তিনি বলেন, “হয়তো আপনারা বুঝতেই পারছেন আমি কার কথা বলছি… ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে শান্তি দিন। আমাকে এই সপ্তাহের উইকএন্ড কা বার করতে না হলেই হয়তো ভাল হত… কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না।”
