অর্জুন দত্তের পরিচালনায় ‘বিবি পায়রা’ ছবিতে প্রথমবার একসঙ্গে দুই শক্তিশালী অভিনেত্রী—পাওলি দাম ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। টলিপাড়ায় দুই প্রথম সারির নায়িকা মানেই কি পর্দায় যেমনই হোক, বাস্তবেও ঝগড়া বা ‘ক্যাটফাইট’ হয়? এই প্রশ্ন এখনকার দর্শকদের মনেও থাকে। সম্প্রতি আজকাল ডট ইন-এর এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি নিয়েই মজার ছলে উত্তর দিলেন পাওলি ও পরিচালক অর্জুন।
জাতীয় পুরস্কার জয়ী পরিচালক অর্জুন দত্ত পরিচালিত ছবি 'বিবি পায়রা'। এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পাওলি দাম এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। এক ছবিতে দুই প্রথম সারির নায়িকা, তাই একেবারেই কি শুটিংয়ের সময় কোনও সমস্যা হয়নি? পর্দায় যাঁদের মধ্যে ও চুলোচুলি, শুটিং চলাকালীন তাঁদের মধ্যে কি সত্যিই 'চুলোচুলি' হয় নি? আজকাল ডট ইন-এর এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্ন শুনেই চমকে উঠলেন পাওলি। তারপরেই সাময়িক বিস্ময় কাটিয়ে জোর হেসে উঠলেন অভিনেত্রী এবং তাঁর পাশে বসা ছবির পরিচালক অর্জুন দত্ত।
হাসি ধরে রেখেই পাওলি ছোট্ট করে বলে উঠলেন, “না, চুলোচুলির জন্য অত সময় তো পাইনি।” পাশ থেকে অর্জুন হাসতে হাসতে বলে উঠলেন, “এই বিষয়ে পাওলিদি একবার একটা খুব সুন্দর কথা বলেছিল। আমি সেটাই এই ফাঁকে বলে দিতে চাই -শুটিংয়ের সময় হিউম্যান ভাইবস ছিল, নট অ্যানিম্যাল ভাইবস।’ অর্থাৎ পরিচালকের ইঙ্গিত স্পষ্ট, এই ছবির শুটিংয়ের পরিবেশ ছিল ছিমছাম, সাধারণ। তবে এখানেই থামেননি বিবি পায়রার পরিচালক। মজার সুরে বলে উঠলেন, “তবে যদি হওয়ারও ছিল... আমি সেই সুযোগ রাখিনি। অন-স্ক্রিন-ই তা দেখিয়ে দিয়েছি। তবে হ্যাঁ, যদি অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তীকে পাওলির স্বামীর ভূমিকায় রাখতাম তাহলে হয়তো হতে পারত দুই নায়িকার চুলোচুলি! কারণ অনির্বাণদা তো স্বস্তিকা-দির ক্রাশ।” পাশে বসা পাওলি তখন হাসিতে মশগুল।
তবে এই সাক্ষাৎকারেই রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু এবং শুটিংয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও মুখ খুলেছেন পাওলি। অভিনেত্রী একটি স্মৃতি হাতড়ে বলেন, “আমি যখন ফ্যামিলি অ্যালবাম শুট করতে যাই, আমাদের শেষ দৃশ্য ছিল আমার চরিত্রটা ডুবে যাচ্ছে। মন্দারমণিতে শুট করেছিলাম। জলের মধ্যে যাচ্ছে যাচ্ছে যাচ্ছে, গলা অবধি জল চলে এসেছি, আর সৈকতে স্বস্তিকার চরিত্র আমায় পাগলের মতো খুঁজছে যে কোথায় গেল? তীরে ছিল গোটা ক্রু, তাঁরা তো প্যানিক করছিলেন। যদিও ডুবুরি, নিরাপত্তা যা যা থাকে, সেসব ছিল। কিন্তু শট তো একাই দিতে হল কারণ ড্রোন শট ছিল। অভিনেতারা যখন শট দেয় আমাদের ওই রিস্ক ফ্যাক্টর থাকেই। ওটা নিয়েই চলি।”
তাঁর আরও সংযোজন, “আমরা এত প্যাশনেট... রাহুল ভীষণ প্যাশনেট ছিল। 'কাগজের বউ' থেকে আমি ওর সঙ্গে কাজ করছি। এরপর ‘ক্ষত’, ‘হইচই’, ‘কালী’তে কাজ করেছি। একজন শিল্পী যখন কাজে ডুবে যায় তার পারিপার্শ্বিকে আর কিছু থাকে না। এই জন্যই এটাকে টিম ওয়ার্ক বলা হয়, এটা কোনও সোলো আর্ট ফর্ম নয়। আমরা অনুমতি নিয়েই কাজ করি, কিন্তু এমনও হয় কোথাও যেতে যেতে কোনও একটা জায়গা দেখে ভাল লাগলে ওখানে নেমে ক্যামেরা নামিয়ে শট নেওয়া হয়। ওই স্বাধীনতা দরকার, কিন্তু একই সঙ্গে সুরক্ষা সংক্রান্ত কিছু নিয়মাবলী আনা দরকার। কিছু ঘটলে প্রযোজক ১০০ শতাংশ উত্তর দিতে বাধ্য কারণ এটা তাঁর ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি। কিন্তু তিনি ছাড়াও এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার, প্রোডাকশন ম্যানেজার খুব জরুরি, এঁরাই কাজটা সুষ্ঠভাবে করানোর দায়িত্বে থাকে।”















