রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গেই বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বদল দেখা গিয়েছে। ব্যান, থ্রেট কালচার সরিয়ে বিনোদন দুনিয়ায় কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন বিজেপির বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ। একইসঙ্গে টলিউডের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন আরেক বিজেপি বিধায়ক হিরণ চ্যাটার্জিও। সোমবার নন্দনে জরুরি বৈঠকের পর আর্টিস্ট ফোরামের থেকে নিজের কাজ না পাওয়া নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। আর সেবিষয়েই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আর্টিস্ট ফোরামের সহ সভাপতি ভরত কল।
হিরণের অভিযোগ নস্যাৎ করে ভরত কল বলেন, “হিরণকে জানতে হবে আর্টিস্ট ফোরাম এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নয়। একথা ঠিক যে সব কাজে আর্টিস্ট ফোরাম সাহায্য করতে পারেনি। তবে আর্টিস্ট ফোরাম কাউকে কোনও দিন কাজ দেয়নি।” একইসঙ্গে অর্নিবান ভট্টাচার্যের ব্যান হওয়া নিয়েও তাঁর সংযোজন, “অনির্বানের ব্যান নিয়ে এত কথা ওঠে। কিন্তু অনির্বান কি কখনও আর্টিস্ট ফোরামকে কিংবা বুম্বা দা-কে লিখিতভাবে জানিয়েছে? যদিও স্বস্তিকা মুখার্জির একটা অভিযোগ ছিল। সেটা কোনওভাবে নজর এড়িয়ে গিয়েছে। এব্যাপারে আমি হাত জোর করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।”
আর্টিস্ট ফোরামের স্বচ্ছতা নিয়ে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “বেশিরভাগ সময় আর্টিস্ট ফোরামের মাথায় থেকেছে বুম্বা দা, রূপা দি সব্যসাচী চক্রবর্তী আমাদের সেক্রেটারি থেকেছেন। আমরা কোনওদিনই রং লাগতে দিইনি। যতদিন মাথার ওপর বুম্বা দা আছে, রং লাগতে দেব না। সবকিছুর জন্য আর্টিস্ট ফোরাম দায়ী হতে পারে না। এটা একটা পরিবার। পরিবারে কি ঝামেলা হয় না! একটা আঙুল আমার দিকে তুললে অনেকগুলো নিজের দিকে যাবে।”
সম্প্রতি রচনা ব্যানার্জি আরবানাও বিতর্কে মত পোষণ করে ভরত কল। তাঁর কথায়, “রচনা যা বলতে চেয়েছেন তা হয়তো বোঝাতে পারেননি। ও বলতে চেয়েছেন আমি কোনও রাজনীতি করে টাকা রোজগার করিনি। রাজনীতির আগেই অনেক কাজ করেছি। মি. বচ্চনের সঙ্গে কাজ করেছি। উনি যদি এই প্রজন্ম বলতেন তাহলে সব ঠিক হয়ে যেতো। আসলে মানুষ যখন রেগে গিয়ে কথা বলেন, তখন দু-একটা লাইন এদিক-ওদিক হয়ে যায়। রচনা খুবই যোগ্য একজন মানুষ, নিজের যোগ্যতায় নিজের জায়গায় পৌঁছেছেন।”
রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও টলিপাড়ার অনেক শিল্পীর গায়ে ‘পাল্টিবাজ' তকমা লেগেছে। উল্লেখ্, তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন ভরত কলও। তাহলে তৃণমূলের থেকে টলিপাড়া অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সরে নিয়ে আসা কী মত তাঁর? ভরত কল বলেন, “আমি সক্রিয়ভাবে আমরা সেভাবে পার্টি করতে পারব না। আমার পক্ষে কখনও সময় ছিল না, এমন আশাও ছিল না। আমি কংগ্রেস পরিবারের ছেলে। আমি একজন কাশ্মিরী ব্রাহ্মণ। কংগ্রেস পরিবারের এই পরিচয়টা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে। সেটা একটা দিক। সেই পরিচয় আমার মনে হয় কোনও দিন আমার কোনও কাজে প্রভাব ফেলেনি, ফেলবেও না। যারা ক্ষমতায় এসেছে তাঁরা জিতে এসেছে। শুভেচ্ছা নতুন সরকারকে। আমাদের অনেক সহযোদ্ধা ওখানে আছেন। তাঁরা তাঁদের সেরা কাজ করার চেষ্টা করবেন।”
তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠ শিল্পী হলেই কাজ পাওয়া যেত, এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। যা নিয়েও ভরত কলেপ স্পষ্ট বক্তব্, “যারা বলেন তৃণমূল সরকার কাজ পাইয়ে দিয়েছে, সেটা ভুল কথা। কাজ মানুষ নিজের যোগ্যতায় কাজ পায়। আমার ৩১ বছর হয়ে গিয়েছে। আমি বাম শাসন দেখেছি, তৃণমূল দেখেছি, এখন বিজেপিও দেখছি। যাকে জনতা বলবে কাজ করবে, তাকেই নির্বাচিত করা হবে। জনগণ পরিবর্তন চাইলে হবে।”
















