নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা দেবরাজ রায়। বৃহস্পতিবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৬৯। বেশ কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অভিনেতা। দীর্ঘদিন কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন অভিনেতা। বড়পর্দা ও ছোটপর্দার পাশাপাশি দূরদর্শনে সংবাদপাঠেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন দেবরাজ।
সত্যজিৎ রায়ের 'প্রতিদন্দ্বী' ছবির হাত ধরে রুপোলি পর্দায় পা রাখেন অভিনেতা। সালটা ছিল ১৯৭০ সাল। এরপরে মৃণাল সেনের 'কলকাতা ৭১' ছবিতে তাঁর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছিল সমালোচকমহল। দেবরাজ রায়ের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে টলিপাড়ায়। বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুর খবরে শোকজ্ঞাপন করার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের স্মৃতি হাতড়ালেন শুভ্রজিৎ দত্ত এবং রোহিত মুখোপাধ্যায়ের মত ছোট ও বড়পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতারা।
অভিনেতা শুভ্রজিৎ দত্ত বললেন, "আমি খোঁজ খবর রাখতাম জানতাম দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। তবে আচমকা এই খবরটা পেয়ে মন খুব খারাপ হয়ে গেল। দেবরাজদার সঙ্গে যেমন কাজ করেছি, ওঁর স্ত্রী অনুরাধাদির সঙ্গেও একাধিক কাজ করেছি। সেই স্মৃতিগুলোই হুড়মুড়িয়ে বারবার ফিরে আসছে মনে। আর দেবরাজ রায় বলতে তো আমাদের কিশোরবেলাও। সেই সময় আমাদের গোটা পরিবার সন্ধেবেলায় এক ঘরে বসে, ওঁর গমগমে গলায় সংবাদপাঠ শুনছে... এই স্মৃতি তো ভোলার নয়! আজও সে দৃশ্য চোখে ভাসে। আমাদের ছোটবেলার একটা অংশের সঙ্গে তাই স্পষ্ট জড়িয়ে দেবরাজ রায়। খারাপ তো লাগছেই। ওঁর মত একজন শিল্পীর চলে যাওয়া শূন্যতার সৃষ্টি হলে তো বটেই..."
শোক জ্ঞাপন করলেন জনপ্রিয় চরিত্রাভিনেতা রোহিত মুখোপাধ্যায়ও। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া 'বহুরূপী' ছবিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। বললেন, "অসম্ভব ভদ্র মানুষ ছিলেন। যখন ওঁর সংবাদপাঠ শুনতাম...ওই জলদগম্ভীর কন্ঠস্বর, মনে হত কী গম্ভীর অথচ যখন ওঁর সঙ্গে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলাম, আবিষ্কার করেছিলাম কী অপূর্ব ব্যক্তিত্ব ওঁর। অনেক স্মৃতি। থিয়েটার নিয়ে বলতেন, 'কতজন দর্শক আমার অভিনয় দেখতে আসছেন সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো কোন ধরনের দর্শক আমার অভিনয় দেখতে আসছেন। দর্শকের মানটাকে খুব গুরুত্ব দিতেন।"
















