শোকের ছায়া প্রায় গোটা বিশ্বে। প্রয়াত বর্ষীয়ান গায়িকা আশা ভোঁসলে। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। জানা গিয়েছিল বর্ষীয়ান গায়িকার শারিরীক অবস্থার অবনতি হতেই তাঁকে তড়িঘড়ি আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাঁর চিকিৎসা করছিলেন।
কিন্তু চেষ্টা বিফলে। না ফেরার দেশে আশা ভোঁসলে। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক ড. প্রতীত সামদানি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা বিনোদন জগতে। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সেন্ট্রাল স্টেজের অর্গানাইজার সম্বুদ্ধ ধর।
আজকাল ডট ইন-কে তিনি বলেন, "আশাজির সঙ্গে বহুবার কাজ করেছি। ওঁর বাড়িতে গিয়েছিলাম অনুষ্ঠানের জন্য কথা বলতে। নিজের হাতে করে চা খাওয়ালেন, সে এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার। শেষ মুহূর্তে জি বাংলার অনুরোধে ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তখন আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন, গান গাওয়ার তো কথা ছিল না। তবুও মঞ্চে উঠে দু'তিন লাইন গেয়েছিলেন।"
তিনি আরও বলেন, "শেষ দেখা হয়েছিল যখন সুপার সিঙ্গার রিয়্যালিটি শো-এ ওঁকে এনেছিলাম। এমনকী কলকাতায় কাজ করার সময় নিজের হাতে পোহা রেঁধে খাইয়েছেন। বেড়েও দিয়েছিলেন আমাদের। সেসব কথা আর কী বলব! এভাবে চলে গেলেন। খুব ভাল মনের মানুষ ছিলেন।"
প্রসঙ্গত, গজল থেকে শুরু করে ক্যাবারে সবক্ষেত্রেই তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। সঙ্গীত পরিচালক ও. পি. নায়ারের সঙ্গে আশার জুটি উপহার দিয়েছিল ‘আও হুজুর তুমকো’র মতো গানহ আবার আর. ডি. বর্মণের সুরে তাঁর কালজয়ী গান ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’ আজও রোমান্টিকতার এক অদ্বিতীয় মানদণ্ড হয়ে আছে।
‘পিয়া তু আব তো আজা’ কিংবা ‘ইয়ে মেরা দিল’-এর মতো গানগুলো সঙ্গীতের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল। তবে কেবল গ্ল্যামার নয়, ‘ইন আঁখো কি মাস্তি’ এবং ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর মতো গানে তাঁর ধ্রুপদী সুরের গভীরতা ও দক্ষতা প্রমাণ করে যে, কেন তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে একচেটিয়া রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর কালজয়ী কণ্ঠেই অমর হয়ে থাকবেন আশা ভোঁসলে।
















