"কতজন সংসার চালাচ্ছেন ওঁর গানের জন্য৷ আমার সৌভাগ্য হয়েছে, ওঁর সঙ্গে দেখা করার৷ বহুবার কথা হয়েছে, একটা সময় আমি গ্র্যান্ড হোটেলে গান গাইতাম। যখনই রেকর্ডিং থাকত লতা মঙ্গেশকর আর আশা ভোঁসলে কলকাতায় এলেই আসতেন গ্র্যান্ড হোটেলে৷ ১০১, ১০২ এই দুটি ঘর ছিল তাঁদের জন্য।  এই ঘরেই থাকতেন।" 

স্মৃতিচারণায় মিতা পাল জানান, কলকাতায় এলে বিভিন্ন গান শুনতে চাইতেন আশা ভোঁসলে। আশা ভোঁসলে বলতেন, "আচ্ছা ওই গানটা শোনাও তো দেখি" 

আশা ভোঁসলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন কিবোর্ডিস্ট অঞ্জন বিশ্বাস৷ মিতা পালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল৷ অঞ্জন বিশ্বাসই  জানান তাঁর অসুস্থতার কথা, স্মৃতিচারণা প্রসঙ্গে আজকাল ডট ইনকে সে কথাও জানান মিতা পাল৷ 

সঙ্গীতশিল্পী শান আর সাগরিকার বাবা মানস মুখার্জির গান রেকর্ড করেছিলেন মিতা পাল৷ সেইসময় লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলের রেকর্ডিং দেখার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন৷ 

লাঞ্চ করার সময় যদি কেউ সামনে থাকতেন,  আশাজি ডেকে নিতেন খাবার সময়৷ মিতা পালকে ডাকলে তিনি প্রায় কাঁদতে কাঁদতে উপস্থিত হন। মিতা পাল জানান, অন্য এক শিল্পীর পছন্দ হয়েছিল আশা ভোঁসলের কানের দুল৷ শোনামাত্রই খুলে দিয়েছিলেন।  এতটাই সহজ সরল মাটির কাছাকাছি মানুষ ছিলেন আশা ভোঁসলে, জানান মিতা পাল৷ 

 ৯২ বছর বয়সেও তিনি ছিলেন সক্রিয়৷ সম্প্রতি শচীন তেন্ডুলকরের ছেলের বিয়েতেও উপস্থিত ছিলেন আশা ভোঁসলে।  ৯০ বছর বয়সেও কনসার্ট করেছেন।  

এমন একজন ইতিবাচক মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন. ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুরসম্রাজ্ঞী৷ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিল্পী থেকে অনুরাগী সকলের মনে৷ 

রবিবার সকালে আশা ভোঁসলের ছেলে আনন্দ ভোঁসলে জানান, কিংবদন্তী শিল্পী পরলোকগমন করেছেন৷ আগামীকাল সকাল ১১ টায় লোয়ার পারেলের কাসা গ্র্যান্ডে শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন সকলে৷ আগামীকাল বিকাল ৪ টেয় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে৷