কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে বিনোদন জগতে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। 

তাঁর এই চলে যাওয়া যেমন সুরের ভুবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনই তাঁর রেখে যাওয়া বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে বর্তমানে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আশা ভোঁসলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা। তবে এই অঙ্কের কোনও প্রমাণিত তথ্য না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে যে তাঁর রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, অন্যান্য বিনিয়োগ এবং গানের রয়্যালটি মিলিয়েই এই বিশাল সম্পত্তি।

আশা ভোঁসলের স্থাবর সম্পত্তির খতিয়ানও বেশ চমকপ্রদ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে মুম্বই ও পুনেতে তাঁর নিজস্ব বসতবাড়ি ছাড়াও রয়েছে অত্যন্ত বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। কেবল গান নয়, ব্যবসায়িক বুদ্ধিতেও তিনি ছিলেন অনন্য। ২০০২ সালে দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করা তাঁর রেস্তোরাঁ চেইন 'আশাস' বর্তমানে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়িয়ে ব্রিটেন পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সফল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের পাশাপাশি তাঁর সমস্ত বিষয়-সম্পত্তি ও মূল্যবান অলঙ্কার তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এবং নাতনি জনাই ভোঁসলের হাতেই যেতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। মূলত আনন্দ ভোঁসলে তাঁর মায়ের এই রেস্তোরাঁ ব্যবসার দায়িত্ব সামলাবেন বলে জানা যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, জীবনের শেষ সময়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আশা। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। জানা গিয়েছিল বর্ষীয়ান গায়িকার শারিরীক অবস্থার অবনতি হতেই তাঁকে তড়িঘড়ি আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাঁর চিকিৎসা করছিলেন। কিন্তু চেষ্টা বিফলে। না ফেরার দেশে আশা ভোঁসলে।

তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা বিশ্ব। সুরের জাদুকরী আর নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া হাজার হাজার গান আগামী বহু শতক ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে অনুরণিত হবে।