বৃহস্পতিবার ছিল রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোট পড়েছে প্রায় ৯১.৯১ শতাংশ, যা এক কথায় ঐতিহাসিক। তামিলনাড়ুতেও ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৮০ শতাংশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দুই রাজ্যের ভোটারদের এই বিপুল উৎসাহের জন্য কুর্নিশ জানিয়েছেন। আর ভোটের দিন মানেই নাগরিক অধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি তারকাদের বুথমুখী হওয়ার ছবি। আর সেই ছবি যখন ধরা পড়ে অরিজিৎ সিংয়ের মতো জনপ্রিয় শিল্পীর ক্ষেত্রে, তখন উত্তেজনার পারদ চড়বেই। তবে যাবতীয় জল্পনা ও ক্যামেরার ফ্ল্যাশের মাঝেও অরিজিৎ বজায় রাখলেন তাঁর চিরচেনা সাবলীল ও মাটির কাছাকাছি থাকা ইমেজ। বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের বুথে স্ত্রী কোয়েল রায়ের সঙ্গে ভোট দিতে এসে গায়ক প্রমাণ করলেন, তারকাখ্যাতি থাকলেও নাগরিক দায়িত্ব পালনে তিনি কতটা সাধারণ।

 

বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের একটি বুথে সস্ত্রীক হাজির হন অরিজিৎ। পরনে অত্যন্ত সাধারণ পোশাক, মুখে অমলিন হাসি। ভোটকেন্দ্রে ঢুকতেই ক্যামেরা আর মিডিয়ার ভিড় জমলেও অরিজিৎ ছিলেন খোশমেজাজে। বুথে উপস্থিত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি। তবে সাংবাদিকেরা যখন তাঁকে ভোট নিয়ে কোনও ‘বার্তা’ দিতে বলে, তখনই অরিজিৎ তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হালকা চালে বললেন, “এখন ভোট দিতে এসে কী বার্তা দেব? লোকে ভাববে আমি নিজেই রাজনীতিতে নেমে পড়েছি!” নিজের আঙুলে ভোটের কালি লাগানোর পর যখন ছবি তোলার অনুরোধ এল, তখনও তিনি মজার ছলে হাসতে হাসতে বললেন, “আমি তো ভোট দিয়েই ফেলেছি—এখন কালি লাগানো আঙুলটাও দেখাতে হবে?” তারপর হালকা মেজাজেই তিনি সংবাদমাধ্যমকে শুভেচ্ছা জানান। সামনে দাঁড়িয়ে তখন আর এই কথাগুলো অরিজিতের চিরচেনা বিনয়ী অথচ বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিত্বকেই তুলে ধরে। গায়কের সামনে দাঁড়িয়ে তখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান।  

?ref_src=twsrc%5Etfw">April 23, 2026

 

 

অরিজিতের আগেই এদিন সকালে মুর্শিদাবাদের ওই বুথে ভোট দিতে আসেন তাঁর বাবা সুরিন্দর সিং। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানান, “সবকিছু খুব সুন্দরভাবে হচ্ছে। আশা করছি ভোটদান ঠিকঠাকভাবে মিটবে। কোথাও কোনও সমস্যা নেই।” বাবা ও ছেলে—দুজনই ভোট দিয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হলেন। 
উল্লেখ্য, এই বছরের জানুয়ারিতেই অরিজিৎ সিং তাঁর প্লেব্যাক কেরিয়ার থেকে বিরতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করে সঙ্গীতমহলে আলোড়ন ফেলেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, গান থামছে না, তিনি স্বাধীনভাবে মিউজিকচর্চা করবেন। সুর নিয়ে তিনি নিজের মতো কাজ চালিয়ে যাবেন। সম্প্রতি তাঁর গাওয়া ‘রানা’ গানটি শ্রোতাদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে।

 

 

বক্স অফিসে ভোটদানের এই ‘তারকা-পর্ব’ যেমন সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, তেমনই অরিজিতের এই সহজ-সরল ভোটদান আবারও প্রমাণ করল—মঞ্চের আলোর বাইরে তিনি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেও কতটা উজ্জ্বল।