সদ্যই যখন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে তখন রীতিমত হইচই পড়ে যায়। বিবাহ বিচ্ছেদ না দিয়ে ফের বিয়ে করার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হন অভিনেতা, বিধায়কের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তারপর কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন হিরণ, যা এদিন মঞ্জুর হয়। তারপর ফের মুখ খুললেন অনিন্দিতা। 

এদিন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় রীতিমত তোপ দাগেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। আজকাল ডট ইনকে বলেন, "জামিন কারা নেয়, যারা পাপ কাজ করে, তারাই নেয় না। আমি-তুমি, আমরা যারা সাধারণ ভাবে থাকি, তাদের তো জামিন নিতে লাগে না। ও প্রমাণ করে দিক না যে ও করেনি কিছু। সেটা তো পারছে না, উল্টে তাড়াতাড়ি গিয়ে পাপের বিরুদ্ধে জামিন নিতে হয়েছে। তার মানে কতটা ভয় আছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। ও একটা ক্রিমিনাল।" অনিন্দিতার এদিন আরও সংযোজন, "আমার কেসের ভিত্তি আছে বলেই তো পুলিশ নিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে দুটো ধারা দিয়েছে।" 

কেবল স্বামী হিরণ চট্টোপাধ্যায় নন, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, ঋতিকা গিরিকেও এদিন এক হাত নেন অনিন্দিতা। বলেন, "শিক্ষিত মেয়ে হলে এটা করত না। হিন্দু আইন, ধর্ম, সুপ্রিম কোর্ট, সকলকে অবমাননা করেছে। নির্লজ্জ, বেহায়া মেয়ে।" 

কেবল বিয়ের বিষয়ে নয়, পরিবারের বিষয়েও ভুল তথ্য দিয়ে 'ভিকটিম কার্ড' খেলে এসেছেন বরাবর হিরণ! দাবি অনিন্দিতার। বললেন, "ও সারাজীবন ভিকটিম কার্ড খেলে এসেছে। চিরকাল সবাইকে বলে এসেছে যে ও অনাথ। আদতে ও অষ্টম গর্ভের সন্তান। ওর ভাই বোন আছে। সিম্প্যাথি কার্ড খেলা ওর কাছে সবথেকে বড়। সেটা এখনও খেলতে চাইছে।" 

অন্যদিকে এদিন কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর হিরণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "মহামান্য আদালতের উপর বিশ্বাস রেখে গিয়েছিলাম, আদালত সেই বিশ্বাস রেখেছেন। যে আদেশ, নির্দেশ দিয়েছেন সেটা অবশ্যই পালন করব।" এই কেসে তাঁর কী বক্তব্য জানতে চাইলে, অভিনেতা স্পষ্টই বলেন, "মহামান্য আদালতকে যা বলার বলেছি। ওটা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য নয়। এটা একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি চাই না এটা পাবলিক হোক। আমি নিজে এই বিষয়ে কথা বলিনি, বলব না। আমি যেমন আপনাদের শ্রদ্ধা করি, চাইব এই সময় আপনারাও যেন সেই শ্রদ্ধা আমার প্রতিও দেখান।"

জানিয়ে রাখা ভাল, গত ৩০ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি আজকাল ডট ইনকে বলেন, "আমি সবসময় বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় যদি কখনও আইনি পর্যায়ে যায়, তবে তা শুধুমাত্র আদালতেই মীমাংসা হওয়া উচিত। এই ধরনের বিষয় সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা করা আমার নীতির সঙ্গে মানানসই নয়। আমি দায়িত্ববোধ ও মর্যাদার সঙ্গে কথা বলছি। আমি নিয়াসার বাবা। একজন বাবা হিসেবে আমার মেয়ের প্রতি ভালবাসা, দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা আমার কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে।" সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, হিরণ কিছু দিন চেন্নাইতে ছিলেন। গত মাসের শেষে কলকাতায় ফিরেই আগাম জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। 

হিরণ দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন ২০২৫ সালে, কিন্তু গত ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় বিয়ে এবং স্ত্রীর ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বেনারসের ঘাটে রীতি মেনে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন বিজেপি বিধায়ক। এদিকে প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়কে এখনও ডিভোর্স দেননি বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁদের মেয়ে নিয়াসা চটোপাধ্যায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অন্যদিকে, এরই মধ্যে ঋতিকা গিরি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন হিরণ এবং তাঁর পাঁচ বছরের সম্পর্ক, অনিন্দিতা মিথ্যে বলেছেন,হিরণ মোটেই ২০২৫ সালে তাঁদের সঙ্গে গিয়ে থাকেননি। এমনকী ঋতিকার বয়স সম্পর্কেও নাকি ভুল তথ্য দিচ্ছেন অনিন্দিতা। এই অভিযোগের পর ক্ষোভ উগরে দেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী।