ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে কিছু জুটি সময়কে অতিক্রম করে। প্রায় চার দশক পর আবার সেই রকম এক স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে দর্শক। অমিতাভ বচ্চন এবং দক্ষিণের কিংবদন্তি তারকা কমল হাসন ফের একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘কল্কি’-র সিক্যুয়েল ‘কল্কি ২’-এর শুটিং।
নিজের ব্লগে শুটিং সেট থেকে একাধিক ছবি শেয়ার করে অমিতাভ জানান, তিনি বর্তমানে হায়দরাবাদে কাজ করছেন বলেই গত রবিবারের তাঁর বাড়ির সামনে ভক্তদের সঙ্গে দেখা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। বহু বছর ধরে তাঁর বাসভবনের বাইরে ভক্তদের সঙ্গে দেখা করার যে ঐতিহ্য, তা এ সপ্তাহে ভাঙতে হয়েছে কাজের চাপে। তাঁর কথায়," কারণ কাজ আগে ...বিশ্রাম পরে। তবে শাহেনশাহ আশ্বাস দিয়েছেন, শিগগিরই আবার ফিরবেন রবিবারের সেই নিয়মে। বিগ বি-র শেয়ার করা সেই সব ছবিতে কখনও দেখা যাচ্ছে শুটিংয়ের ফাঁকে ভ্যানিটি ভ্যানের বাইরে কমল হাসন-কে দেখামাত্রই এগিয়ে এসে হাসিমুখে অভিবাদন জানাচ্ছেন অমিতাভ। অন্যটিতে দেখা যাচ্ছে, হাসিমুখে পরস্পর পরস্পরকে দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে আছেন।
শুধু শুটিং নয়, ‘কল্কি ২’-এর সেটে অমিতাভের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল কামাল হাসনের সঙ্গে রিইউনিয়ন। শেষবার তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন ১৯৮৫ সালের ছবি ‘গ্রেপ্তার’-এ। সে ছবিতে ছিলেন রজনীকান্ত-ও। জানিয়ে রাখা ভাল, ১৯৮৫ সালের সেই ছবি ছিল ওই বছরের সবথেকে বড় বক্স অফিস সফল ছবির মধ্যে একটি। দীর্ঘ ব্যবধানের পর ফের একই প্রজেক্টে কাজ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত অভিনেতা।

‘কল্কি ২’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চন আবারও ফিরছেন ‘অশ্বত্থামা’র চরিত্রে। যিনি পৌরাণিক কাহিনিতে দ্রোণাচার্যের পুত্র এবং অভিশপ্ত অমর যোদ্ধা। এই চরিত্রটি প্রথম দেখা গিয়েছিল ২০২৪ সালের চলচ্চিত্র ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’তে, যেখানে পৌরাণিক উপাদান আর ভবিষ্যতের ডিস্টোপিয়ান বিশ্বকে একসূত্রে বেঁধেছিলেন পরিচালক নাগ অশ্বিন।
‘কল্কি’ সিরিজের গল্পের প্রেক্ষাপট ছিল দূর ভবিষ্যতের কাশীতে, যেখানে মানবসভ্যতা সঙ্কটের মুখে। একদল মানুষ রক্ষা করতে চায় এক অনাগত শিশুকে, যাকে মনে করা হচ্ছে বিষ্ণুর শেষ অবতার কাল্কি। পৌরাণিক বিশ্বাস, রাজনৈতিক সংঘাত, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ, সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক বিস্তৃত সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স। ফ্র্যাঞ্চাইজির সেই প্রথম ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রভাস, দীপিকা পাড়ুকোন, দিশা পটানি-সহ একাধিক তারকা। সিক্যুয়েলে গল্প আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
&t=313s
অমিতাভ–কমল জুটির রিইউনিয়ন শুধু নস্টালজিয়া নয়, বরং দুই ভিন্ন চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির মিলন। একদিকে বলিউডের কিংবদন্তি, অন্যদিকে দক্ষিণী সিনেমার শক্তিশালী অভিনেতা-এই দুই মেরুর সংযোগ ছবির গুরুত্বও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।শুটিং শুরু হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই সিক্যুয়েল ভারতীয় সিনেমার স্কেলে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।
