মফস্সল আর কলকাতার উপকণ্ঠের বাস্তব জীবনকে পটভূমি করে তৈরি হচ্ছে এক ভিন্ন স্বাদের বাংলা ছবি, ‘ভাগ্যলক্ষ্মী বাম্পার’। প্রথম দেখায় এটি ভাগ্য বদলের গল্প মনে হলেও, ভিতরে ভিতরে ছবিটি আসলে মানুষের নৈতিকতা, লোভ, বিশ্বাস এবং আত্মজাগরণের এক তীক্ষ্ণ অনুসন্ধান।

ছবির কেন্দ্রে নারায়ণ। পেশায় ডিজিটাল ঘটক অথচ ব্যক্তিগত জীবনে ঋণ, ভাঙা সম্পর্ক আর ব্যর্থতার ভারে জর্জরিত এক সাধারণ মানুষ। এক মুহূর্তের আবেগে কেনা একটি লটারির টিকিট হঠাৎই বদলে দেয় তার জীবন। বিপুল অর্থের মালিক হয়ে ওঠে সে। কিন্তু সেখানেই গল্পের মোড়।

অর্থের ঝলকানি যত বাড়ে, ততই নারায়ণের চারপাশে ঘনীভূত হতে থাকে অদ্ভুত এক আবহ। স্বপ্নে না, বাস্তবে তার সামনে আবির্ভূত হন দেবী লক্ষ্মী। তাঁর নীরব উপস্থিতি যেন ইঙ্গিত দেয়, এই প্রাপ্তির পেছনে রয়েছে অন্য কোনও অদৃশ্য হিসাব। এরপরেই শুরু হয় ঘটনাপ্রবাহের দ্রুত পরিবর্তন। বিশ্বাসঘাতকতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, পরপর বিপর্যয় এমনকী এক চাঞ্চল্যকর খুন নারায়ণের জীবনকে টেনে নেয় নৈতিক সংকটের এক অদ্ভুত ঘূর্ণিতে। অর্থ আর সাফল্যের মধ্যেই সে উপলব্ধি করতে শুরু করে, সব জেতাই আসলে জয় নয়।

গল্পটি তাই শুধুই ভাগ্যবদলের নয়; এটি মানুষের বিবেক, কর্মফল এবং সিদ্ধান্তের গল্প। যেখানে প্রশ্ন উঠে আসে -সৌভাগ্য কি আশীর্বাদ, না কখনও কখনও তা হয়ে ওঠে পরীক্ষার মঞ্চ?

ছবিটির গল্প ও পরিচালনায় রয়েছেন ঋষভ দত্ত। অভিনয়ে দেখা যাবে উন্মেষ গাঙ্গুলি, বিমল গিরি, স্বরলিপি ঘোষ, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, সুরজিৎ মল, সুব্রত সেনগুপ্ত, স্বাতী মুখোপাধ্যায়, শান্তনু মজুমদারসহ একাধিক পরিচিত মুখকে। প্রযোজনায় রয়েছে মজোটালে এন্টারটেইনমেন্টস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনস, গ্রেম্যাটার ফিল্মস এবং ডেজিনিয়াক্স স্টুডিওস।

পরিচালকের কথায়, ছবির ধারণা প্রথম আসে ২০২১ সালে। ২০২৩ সালে চিত্রনাট্য সম্পূর্ণ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় যাত্রা। নতুন দল, নতুন চ্যালেঞ্জ, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তৈরি হয়েছে এই ছবি। তাঁর মতে, ‘ভাগ্যলক্ষ্মী বাম্পার’ কেবল অর্থপ্রাপ্তির গল্প নয়, এটি মানুষ হিসেবে আমরা কী সিদ্ধান্ত নিই, সেই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায় দর্শককে।

 

&t=313s

 

সব মিলিয়ে, এই ছবি হাসি-ঠাট্টা আর রহস্যের মোড়কে এক গভীর মানবিক প্রশ্ন তুলে ধরে—ভাগ্য কি সত্যিই বদলায় না বদলায় মানুষের অন্দর?