বলিউডের গ্ল্যামার আর পর্দার পেছনের বাস্তব যে কতটা আলাদা হতে পারে, অক্ষয় কুমারের এই সাম্প্রতিক বয়ান তারই এক মজার উদাহরণ। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ভুল ভুলাইয়া’ ছবির মঞ্জুলিকা চরিত্রটি ভারতীয় দর্শকদের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্নের নাম। কিন্তু খোদ ছবির নায়কের বাড়িতেই যে সেই চরিত্রটি এমন ত্রাস সৃষ্টি করবে, তা কে জানত! অক্ষয় কুমারের ২৩ বছর বয়সী ছেলে আরভ-এর বড় হয়ে ওঠার এক বড় অংশ জুড়ে ছিল বিদ্যা বালনের পর্দার অবতার ‘মঞ্জুলিকা’-র প্রতি এক অমোঘ আতঙ্ক।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অক্ষয় কুমার নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এই মজার অথচ অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। অক্ষয় জানান, আরভ যখন প্রথমবার ‘ভুল ভুলাইয়া’ দেখেছিল, তখন সে নেহাতই ছোট। পর্দায় অবনী থেকে মঞ্জুলিকায় রূপান্তরিত হওয়া বিদ্যার সেই লাল লাল চোখ, এলোমেলো চুল আর অট্টহাসি আরভের মনে এমন এক ছাপ ফেলেছিল যে, সে পর্দার বিদ্যা আর বাস্তবের বিদ্যার মধ্যে তফাৎ করতে ভুলে গিয়েছিল।
অক্ষয় হেসে বলেন, “আপনারা বিশ্বাস করবেন না, ও বিদ্যা বালনের সঙ্গে টানা ছয় বছর কথা বলেনি! বিদ্যা যখন আমাদের বাড়িতে আসত, আরভ ওর চোখের দিকে তাকাতেও ভয় পেত। ও ভাবত যদি বিদ্যা হঠাতই মঞ্জুলিকা হয়ে ওকে আক্রমণ করে বসে।” পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, খোদ অক্ষয় কুমারকে আসরে নামতে হয়েছিল। একজন তারকা-বাবার পক্ষেও খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল নিজের ছেলেকে এটা বোঝানো যে, স্ক্রিনে যাকে সে দেখছে তা স্রেফ অভিনয়।
অক্ষয় আরও যোগ করেন, “আমাকে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ওকে কাউন্সেলিং করতে হয়েছে। আমি ওকে বার বার বলতাম, ‘বাবা, ও বিদ্যা বালন, ও খুব ভাল মানুষ। ও আমাদের বন্ধু।’ কিন্তু আরভ স্রেফ মাথা নাড়িয়ে পিছিয়ে যেত। ওর মনে ওই চরিত্রটি একটা গভীর ক্ষত তৈরি করে দিয়েছিল।”
আসলে বিদ্যার সেই অভিনয় এতটাই নিখুঁত ছিল যে, কেবল আরভ নয়, সেই সময়ে বহু শিশুই ‘মঞ্জুলিকা’র ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত। মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার এই ছবিতে বিদ্যা বালনের দ্বৈত সত্তার প্রকাশ আজও বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনয় হিসেবে গণ্য করা হয়। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর পর সেই ‘মঞ্জুলিকা’র স্মৃতি আবারও টাটকা হচ্ছে, কারণ বিদ্যা এবং অক্ষয় খুব শীঘ্রই আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন পরিচালক আনিস বাজমির হাত ধরে। তবে তার আগে অক্ষয় ব্যস্ত তাঁর হরর-কমেডি ‘ভূত বাংলা’ নিয়ে, যেখানে পরেশ রাওয়াল আর রাজপাল যাদবের সঙ্গে আবারও ‘ভুল ভুলাইয়া’র সেই আমেজ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দর্শকরা।
















