আজ ৩১ মে। দেখতে দেখতে কেটে গেল বেশ কয়েকটি বছর, কিন্তু ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম সেরা জাদুকর কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ, যাঁকে গোটা বিশ্ব একডাকে কেকে (KK) নামে চেনে, ওঁর আকস্মিক চলে যাওয়ার ক্ষত আজও অমলিন। ওঁর গানের মতোই ওঁর চলে যাওয়াটাও ছিল এক অদ্ভুত সুরের টান। কলকাতার ‘নজরুল মঞ্চে’ হাজার হাজার ভক্তকে শেষবারের মতো ওঁর সেই চিরপরিচিত হাই-পিচ ভয়েসে ‘পল’ আর ‘ইয়ারো’ শুনিয়ে ৫৩ বছর বয়সে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এই মেলোডি কিং।
আজ ওঁর সেই চিরবিদায়ের দিনে, ওঁর জীবনের শেষ দিনগুলোর কিছু সোনালী স্মৃতি, অপ্রকাশিত মুহূর্ত এবং এক নস্টালজিক সফরনামা আরও একবার সাজিয়ে দেওয়া হল পাঠকদের জন্য।
2
12
মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কলকাতার নজরুল মঞ্চে বিবেকানন্দ কলেজের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছিলেন কেকে। অডিটোরিয়াম উপচে পড়া ভিড়ের সামনে শেষবারের মতো ঘাম ঝরিয়ে গান গাওয়ার পর নিজের ইনস্টাগ্রামে ওঁর শেষ পারফরম্যান্সের ছবি শেয়ার করে কেকে লিখেছিলেন -“নজরুল মঞ্চের রাত। বিবেকানন্দ কলেজ!! তোমাদের সবাইকে ভালবাসি।”
3
12
কে জানত, কলকাতার দর্শকদের প্রতি এই ‘লাভ ইউ অল’ বার্তাটিই ওঁর জীবনের শেষ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট হয়ে থাকবে! ওদিকে কলকাতায় আসার আগে ওঁর ব্যান্ডের সাথে প্লেনে বসা অবস্থায় ওঁর জীবনের শেষ সেলফিটি তুলেছিলেন তিনি।
4
12
১৯৯৬ সালে কিংবদন্তি গুলজারের ‘মাচিস’ ছবিতে ‘ছোড আয়ে হাম ওহ গলিয়াঁ’ গানের মাধ্যমে বলিউডে প্লে-ব্যাক কেরিয়ার শুরু করেছিলেন কেকে। তবে ওঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ ছবির ‘তড়প তড়প কে ইস দিল সে’ গানটি। এরপর গত আড়াই দশকে ‘পল’, ‘ইয়ারো’, ‘তু হি মেরি শব হ্যায়’, ‘আঁখো মে তেরি’, ‘খুদা জানে’র মতো অজস্র কালজয়ী গান আমাদের উপহার দিয়েছেন তিনি, যা আজও প্রতিটা যুবকের প্রেম, বিরহ আর বন্ধুত্বের অ্যান্থেম।
5
12
কলকাতায় আসার ঠিক কিছুদিন আগেই এক অদ্ভুত সমাপতন ঘটেছিল কেকে-র জীবনে। যে গুলজার সাহেবের হাত ধরে ওঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল, মৃত্যুর ঠিক আগে ওঁর বন্ধু তথা সঙ্গীত পরিচালক শান্তনু মৈত্র এবং পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘শেরদিল’-এর জন্য গুলজার সাহেবের লেখা একটি গান রেকর্ড করেছিলেন কেকে।
6
12
গুলজার সাহেবের সাথে একটি হাসিমুখের ছবি শেয়ার করে কেকে লিখেছিলেন, “কত বছর পর গুলজার সাহেবের সঙ্গে দেখা হল! ১৯৯৬ সালে ‘মাচিস’ দিয়ে ওঁর সঙ্গেই ফিল্মি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। আজ আবার ওঁর সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হলো। কত পুরনো স্মৃতি তাজা হয়ে উঠল। উনি কত দয়ালু এবং অমায়িক একজন মানুষ। প্যাকে বড্ড ভালবাসি, গুলজার সাহেব।”
7
12
কলকাতায় আসার ঠিক আগেই পুনেতে জেডএস-এর বিএমএস ক্রাউডের সামনে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন কেকে। সেখানকার হাই-এনার্জি দর্শকদের প্রশংসা করে পোস্টও করেছিলেন। এছাড়াও মৃত্যুর কিছুদিন আগে দিল্লির ‘নেতাজি সুভাষ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি’-তেও ওঁর লাইভ পারফরম্যান্সের অ্যাকশন ছবি নেটপাড়ায় ঝড় তুলেছিল।
8
12
ওঁর হাসিখুশি স্বভাবের জন্য বিখ্যাত কেকে-কে শেষদিকের দিনগুলোতে ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে এসে কপিল শর্মার সাথে মন খুলে হাসতেও দেখা গিয়েছিল।
9
12
ব্যক্তিগত জীবনে কেকে যেমন একজন দুর্দান্ত ফ্যামিলি ম্যান ছিলেন, তেমনই ওঁর গাড়ির প্রতিও ছিল তুমুল শখ। ওঁর প্রিয় ‘অডি আর এইট’ গাড়িটিকে বিদায় জানিয়ে নতুন ‘অডি আরএস ৫ স্পোর্টব্যাক’ কিনেছিলেন।
10
12
ওঁর জীবনের শেষ দিনগুলোর অন্যতম একটি সুন্দর স্মৃতি ছিল স্ত্রী জ্যোতির সাথে প্যারিসে কাটানো একটি রোমান্টিক ছুটি।
11
12
ওঁর শেষ দিকের কাজের মধ্যে ছিল মহেশ ভাটের কামব্যাক ছবি ‘সড়ক ২’-এর জন্য দুটি গান গাওয়া। মহেশ ভাটের সঙ্গেও ওঁর চমৎকার সম্পর্কের ছবি অনুগামীরা ভোলেননি।
12
12
আজ ৩১ মে কেকে আমাদের মধ্যে শারীরিকভাবে না থাকলেও, ওঁর গাওয়া সেই লাইন— “হাম রহে ইয়া না রহে কাল, ইয়াদ আয়েঙ্গে ইয়ে পল”— প্রতিদিন অসংখ্য সঙ্গীতপ্রেমীর হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।