বলিউডের ইতিহাসের পাতা ওলটালে এমন কিছু জুটি পাওয়া যায়, যাঁদের পর্দার রসায়ন রুপোলী সীমানা ছাড়িয়ে বাস্তব জীবনের এক চিরন্তন উপাখ্যান হয়ে রয়ে গেছে। এই তালিকার শীর্ষে যে দুটি নাম চিরকাল জ্বলজ্বল করবে, তাঁরা হলেন— অমিতাভ বচ্চন এবং এভারগ্রিন বিউটি রেখা । দশকের পর দশক কেটে গেছে তাঁরা দু’জনে একসঙ্গে কোনও ছবিতে অভিনয় করেননি, কিন্তু আজও ‘বিগ বি’ আর রেখার রসায়ন নিয়ে সিনেপ্রেমীদের চর্চা বিন্দুমাত্র কমেনি।

অমিতাভ-রেখার এই অফ-স্ক্রিন সমীকরণ নিয়ে বহু বছর ধরে গুঞ্জন চললেও, ২০০৪ সালে সিমি গারেওয়াল -এর বিখ্যাত টক-শো ‘রঁদেভু উইথ সিমি গারেওয়াল’ -এ এসে রেখা যা বলেছিলেন, তা বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সাহসী এবং বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

 

 

 


সেই ঐতিহাসিক চ্যাট শো-তে সঞ্চালক সিমি গারেওয়াল কোনো রাখঢাক না রেখেই রেখাকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন— তিনি কি কখনও অমিতাভ বচ্চনের ‘প্রেমে’ পড়েছিলেন?সচরাচর এই ধরণের ব্যক্তিগত প্রশ্ন তারকাদের অস্বস্তিতে ফেললেও, রেখা ওঁর স্বভাবসিদ্ধ রাজকীয় ভঙ্গিতে যে উত্তর দিয়েছিলেন, তা আজও নেটপাড়ায় বারবার ভেসে ওঠে। রেখা অকপটে বলেছিলেন -“অবশ্যই পড়েছিলাম! সত্যি বলতে, এটা একটা বড্ড বোকা প্রশ্ন । আমি আজও পর্যন্ত এমন একটা কোনও পুরুষ, মহিলা বা শিশু দেখিনি— যে ওঁর (অমিতাভ বচ্চন) ব্যক্তিত্বের প্রেমে পুরোপুরি, তীব্রভাবে, পাগলের মতো, ব্যাকুল হয়ে এবং আশাহীনভাবে না পড়ে থাকতে পেরেছে! তাহলে শুধু আমাকেই কেন আলাদা করে দাগিয়ে দেওয়া হবে? আমি কোন জিনিসটা অস্বীকার করব? আমি ওঁর প্রেমে পড়িনি? আলবাত আমি ওঁর প্রেমে পড়েছি!”
ক্যামেরার সামনে রেখার এই নিখাদ এবং নির্ভীক স্বীকারোক্তি মুহূর্তে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল তৎকালীন বিনোদন দুনিয়ায়। অমিতাভ বচ্চনের প্রতি ওঁর এই গভীর অনুরাগ যে কোনও লুকোছাপার উর্ধ্বে, তা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।


অমিতাভ বচ্চন অভিনয়ের ক্ষেত্রে রেখাকে দেওয়া সেরা প্রশংসা বা কমপ্লিমেন্ট কী ছিল? এই বিষয়ে দেওয়া এক পুরনো সাক্ষাৎকারে রেখা এক অদ্ভুত ও বিনম্র উত্তর দিয়েছিলেন। ওঁর মতে, অমিতাভের মুখ থেকে কোনও আলাদা প্রশংসার দরকার ছিল না ওঁর।রেখা বলেছিলেন, “আমার মনে হয় উনি জেনে বা না জেনে আমাকে যে একমাত্র সেরা কমপ্লিমেন্টটা দিয়েছিলেন, তা হলো ওঁর মতো একজন মহান সহ-অভিনেতার সঙ্গে আমাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। ওঁর পাশে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারাটাই আমার জীবনের পাওয়া সবচেয়ে বড় প্রশংসা।”


১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া যশ চোপড়ার ‘সিলসিলা’ ছবিটিকে এই জুটির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আইকনিক এবং বাস্তব জীবনের ছায়া অবলম্বনে তৈরি অধ্যায় হিসেবে ধরা হয়। আজও এই ছবি নিয়ে ফিল্ম ক্লাবে অন্তহীন আলোচনা চলে। তবে স্রেফ ‘সিলসিলা’ই নয়, তার আগে ও পরে এই জুটি বলিউডকে একঝাঁক অল-টাইম ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছে।

যার মধ্যে রয়েছে— ‘দো আনজানে’ (১৯৭৬), ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দর’ (১৯৭৮), ‘মিস্টার নটবরলাল’ (১৯৭৯), ‘সুহাগ’ (১৯৭৯) এবং ‘রাম বলরাম’ (১৯৮০)। এই ছবিগুলোতে তাঁদের নিখুঁত অভিনয় এবং চোখের ভাষা দর্শকদের হৃদয়ে এমন এক স্থায়ী দাগ কেটে গেছে, যার রেশ ২০২৬ সালেও এসেও একই রকম টাটকা। রাজকীয় প্রেম হোক বা বিরহ— অমিতাভ-রেখা জুটি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে চিরকাল ‘মিথ’ হয়েই থেকে যাবে।