বিশ্বসুন্দরী হওয়ার অনেক আগেই ঐশ্বর্য ছিলেন ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ৷ নরম পানীয়ের বিজ্ঞাপন তাঁকে জনপ্রিয়তা দিয়েছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে খ্যাতনামী স্টাইলিস্ট অ্যাশলে রেবেলো ঐশ্বর্যর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন৷ বিজ্ঞাপনের পরিচালক ছিলেন অবিনাশ ত্রিপাঠী। তিনি জানিয়েছেন, "বিশ্বসুন্দরী হওয়ার আগে ঐশ্বর্য ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ মেয়ে যে পিঠখোলা জামা পরতে ইতস্তত করতেন৷"
কোন পোশাকে কেমন লাগবে তা দেখার জন্য ডেকেছিলেন ঐশ্বর্যকে৷ পিঠখোলা পোশাক ঐশ্বর্যর দেহের মাপ মতো হয়েছে কি না তা দেখার জন্য ডাকা হয়েছিল৷ পিঠখোলা পোশাক দেখে ঐশ্বর্য জানতে চেয়েছিলেন "আমাকে এটা পরতে হবে?"
ঐশ্বর্য মায়ের সঙ্গে এসেছিলেন৷ তাঁর মায়েরও এই পোশাক নিয়ে কিছুটা আপত্তি ছিল। কিন্তু নান্দনিক ভাবে এই পোশাক ব্যবহার করা হবে জেনে তাঁরা আশ্বস্ত হয়েছিলেন৷ অ্যাশলে বলেছেন, "আমি যখন ওঁকে প্রথম দেখি তখন ও 'ঐশ্বর্য রাই' হয়নি৷ মায়ের সঙ্গে পোশাকের মাপ দেখতে এসেছিল৷"
শুরুর দিনের সেই বিশ্বাস ক্রমে মজবুত হয়েছিল৷ ঐশ্বর্য যখন বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেন তখন এই রেবেলোর ডিজাইন করা পোশাক পরেছিলেন৷ ঐশ্বর্য প্রায় ২০ টি শাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন৷ বিভিন্ন রঙের শিফন শাড়ি- রাণী, হলুদ, কালো, সাদা, সমুদ্রনীল, লাল এত রঙের শাড়ি আর ম্যাচিং চুড়ি আর টিপ দিয়েছিলেন৷ তিনি ঐশ্বর্যকে বলেছিলেন, প্রতিদিন সকালে জলখাবার খেতে যাওয়ার সময় নতুন একটা শাড়ি অবশ্যই পরবেন৷
প্রতিদিন ঐশ্বর্যর নিত্যনতুন শাড়ি অন্য প্রতিযোগীদের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল৷ ঐশ্বর্যর এই সাজ এতই জনপ্রিয় হয় যে সকলে ঐশ্বর্যর টিপ আর চুড়ি নিয়ে পরেছিলেন। তাই ঐশ্বর্য রেবেলোকে আরও টিপ আর চুড়ি তাঁর মায়ের হাত দিয়ে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে৷ রেবেলো বলেন, "আমি সেইসময় বুঝতে পারি ঐশ্বর্য শুধু দেখতেই সুন্দর না, ওঁর মনটাও খুব সুন্দর৷"
১৯৯২ সাল, ঐশ্বর্য তখন মিস ওয়ার্ল্ড হননি, টুকটাক মডেলিং করছেন৷ প্রযোজক শৈলেন্দ্র সিং ঐশ্বর্যর কেরিয়ারের শুরুর সময়কার স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, কুণাল কাপুর এবং শৈলেন্দ্র সিং এর সঙ্গে দেখা করতে আসেন ১৮-১৯ বছর বয়সী ঐশ্বর্য, সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা মা।
নেটমাধ্যমে ভাইরাল ঐশ্বর্যর কেরিয়ারের শুরুর সময়কার বিল৷ মাত্র দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে একটি পত্রিকার ক্যাটালগ শুট করেন ঐশ্বর্য৷ পরে একটি বিজ্ঞাপনের বিজ্ঞাপনের জন্য ঐশ্বর্য পেয়েছিলেন মাত্র ৫০০০ টাকা। একইসঙ্গে তিনটে বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব আসে ঐশ্বর্যর কাছে৷ সেই সময় অর্জুন রামপাল ছিলেন তাঁর সহ-অভিনেতা৷
