রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল এবং প্রযোজনা সংস্থার তরফে সঠিক জবাব না দেওয়ার পর ৭ এপ্রিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে মিটিং চলে। উপস্থিত ছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা। ছিলেন ইম্পা, ফেডারেশনের সদস্যরা এবং প্রযোজকরা। সেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স প্রযোজনা সংস্থাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরই নানা রকম পোস্ট সমাজমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। সেসব পোস্টে কটাক্ষ করা হয়েছে মূলত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি নাকি এই ব্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপর পাল্টা জবাব দিলেন অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "যখন মর্মান্তিক ভাবে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটল, তখন আর্টিস্ট ফোরাম চিঠি পাঠাল প্রযোজনা সংস্থাকে। তখন সব রব উঠল, আর্টিস্ট ফোরাম সবসময় মিনমিন করে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সারাক্ষণ সুবিধা দেখেন, ম্যানিপুলেশন করেন। চিঠি ছাড়া আর কোনও স্টেপ নেই? এরপর যখন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় দায়িত্ব নিয়ে সবাইকে জড়ো করলেন এবং নতুন কমিটির সকলে তাঁর পিছনে থাকলেন, রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ জানানো হল, একই দিনে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে তালসারিতে ছুটলেন। গতকাল সব কিছু নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, আর্টিস্ট ফোরাম কমিটি সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু বারবার আঙুল তোলা হচ্ছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দিকে। কেন?" 

সুরজিতের আরও সংযোজন, "তাঁর (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) জলে যাওয়ার সিন হলে অন্তত ১৮ জন থাকবে যে তিনি নিশ্চিত। তাঁর বিপদ নেই। কিন্তু রাহুলের মৃত্যু তাঁকে এত ধাক্কা দিয়েছে যে এই ম্যানিপুলেটর, স্কিমবাজ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নিজের সময়ের তোয়াক্কা না করে, সুখ খাওয়া দাওয়া ফেলে ৭ দিন ধরে ছুটে বেড়ালেন। এইবার যেই প্রযোজনা সংস্থাকে নিষিদ্ধ করা হল, অমনি নানা লেখা আসছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে টার্গেট করে। প্রশ্ন উঠছে তিনি কি পুলিশ যে সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। এই সিদ্ধান্ত উনি একা নেননি। গণতন্ত্র ভেঙে তিনি একা এই সিদ্ধান্ত নেননি। সকল পদাধিকারীরা নিয়েছেন। এতদিন নিষ্ক্রিয় থাকা অপরাধ ছিল। এখন সক্রিয় হতেই ফের আক্রমণ। এগুলো নেওয়া যাচ্ছে না।" 

কেবল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে আক্রমণ করার প্রসঙ্গ নয়, এদিন সুরজিতের বক্তব্যে উঠে আসে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের কথা। ৭ এপ্রিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে গিয়ে শ্রীলেখা মিত্র চিৎকার করেন, কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁকে নিষিদ্ধ করে রাখার বিষয় নিয়ে। এদিন সেই প্রসঙ্গে সুরজিৎ বলেন, "একজন অভিনেত্রী তাঁর নিজের অ্যাজেন্ডা নিয়ে এসে কাল এক অদ্ভুত সিন ক্রিয়েট করলেন। দরকার ছিল না এটা করার। সেখানে এমন আরও অনেকে ছিলেন যাঁরা কিছুদিন আগেও নিজেদের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু কালকের দিনটি নয়। কিন্তু এই অভিনেত্রী কালকের দিনকে বেছে নিলেন, যাতে একটু মাইলেজ পান। যাতে মিডিয়া তাঁর ক্রুদ্ধ, কান্নার ছবি নানা রকম ভাবে পোস্ট করবে। এগুলো নেওয়া যাচ্ছে না।" 

তাঁর শেষ বক্তব্য, "এতদিন নিষ্ক্রিয় বলে অপবাদ দিয়েছে, এখন সক্রিয় বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এগুলো ঠিক নয়।"