অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চন-এর দাম্পত্য জীবন নিয়ে মাঝেমধ্যেই নানা জল্পনা-কল্পনা সামনে আসে। তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা পারিবারিক দূরত্ব নিয়ে সমাজমাধ্যমে গুঞ্জনও কম নেই। তবে বচ্চন দম্পতি বরাবরই তা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু ঐশ্বর্যর আকাশছোঁয়া সাফল্য নিয়ে কি অভিষেক বচ্চনের মনে কখনও হীনম্মন্যতা তৈরি করেছে? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে খোলাখুলি উত্তর দিয়েছেন জুনিয়র বচ্চন। তাঁর মতে, তাঁদের পরিবারে বড় হওয়া বা শিক্ষার ধরন তাঁকে কখনওই এমন সংকীর্ণভাবে ভাবতে শেখায়নি।
অভিষেক জানান, তিনি এমন একটি পরিবেশে বড় হয়েছেন যেখানে মেয়েদের সাফল্যকে সবসময় সম্মান করা হয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যখন তাঁর বাবা অমিতাভ বচ্চন এবং মা জয়া বচ্চনের বিয়ে হয়েছিল, তখন জয়া বচ্চন তাঁর বাবার চেয়ে অনেক বড় তারকা ছিলেন। তাই স্ত্রীর সাফল্য যে স্বামীর জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে না, তা তিনি নিজের চোখের সামনে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছেন।
অভিষেকের কাছে দাম্পত্য মানে হল একটি সুন্দর পার্টনারশিপ। তিনি বিশ্বাস করেন, কারও পুরুষত্ব প্রমাণ করার জন্য তাঁর স্ত্রীর স্বপ্ন বা কেরিয়ার বিসর্জন দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, "আমি এমন মানুষ নই যে ভাবব কাউকে দৌড় থামিয়ে দিতে হবে যাতে আমি রেসে জিততে পারি।" বরং তিনি এবং ঐশ্বর্য একে অপরের সবচেয়ে বড় সমর্থক।
সাক্ষাৎকারে অভিষেক একটি মজার কথাও বলেন। তিনি জানান, তাঁর মধ্যে 'তীব্র অহংবোধ' রয়েছে। কিন্তু সেই অহংকার অন্যকে ছোট করার জন্য নয়। বরং নিজের পরিশ্রমে সাফল্য পাওয়ার জন্য। তিনি মনে করেন, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতিযোগী নন। তাঁদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বই তাঁদের সম্পর্কের আসল ভিত্তি।
আরাধ্যাকেও বচ্চন দম্পতি এই একই শিক্ষায় বড় করছেন। অভিষেক জানান, তাঁরা আরাধ্যাকে মুখে নীতিবাক্য শোনানোর চেয়ে নিজেরা কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করতে পছন্দ করেন। তাঁদের সংসারে কাজের কোনও ভেদাভেদ নেই, সবকিছুই সমতার ভিত্তিতে চলে।
অভিষেক বচ্চন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মনের জোর আর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে জীবনসঙ্গীর বড় সাফল্য কখনও ব্যক্তিগত ঈর্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, বরং তা হয়ে ওঠে আনন্দের বিষয়।
















