অভিনেতা আমির খানের ব্যক্তিগত জীবন এবং তাঁর তৃতীয় বিয়ে নিয়ে তুমুল বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ধর্মীয় গুরু, অনেকেই এবিষয়ে মুখ খুলছেন। এবার সেই বিতর্কেই যোগ হল এক বিস্ফোরক ও মারাত্মক মোড়। আমির খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রকাশ্যেই কোটি কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করলেন অযোধ্যার এক ধর্মীয় গুরু!
গত ৫ জুলাই নিজের বান্দ্রার বাসভবনে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে ছিমছাম ও ঘরোয়াভাবে আইনি বিয়ে সারেন ৬১ বছর বয়সী আমির খান। দুই প্রাক্তন স্ত্রী রীনা দত্ত ও কিরণ রাও এবং সন্তানদের উপস্থিতিতে 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট' -এর নতুন জীবন শুরু নিয়ে যখন বিনোদন দুনিয়ায় চর্চা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নীতেশ রানে আমির খানের বিয়েকে কেন্দ্র করে তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং সরাসরি অভিনেতাকে 'লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর' বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, আমির খান নিজের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে সমাজে একটি ভুল বার্তা দিচ্ছেন।
নীতেশ রানের এই আক্রমণাত্মক বয়ানের রেশ কাটতে না কাটতেই আসরে নামেন অযোধ্যার তপস্বী জগৎগুরু পরমহংস আচার্য। তিনি নীতেশ রানের বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আমিরের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ নিদান জারি করেছেন। পরমহংস আচার্য প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেন, "যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করতে পারবে, তার পরিবারকে আমার পক্ষ থেকে নগদ ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের সমস্ত খরচও আমরাই বহন করব।"
বিনোদন জগতের কোনো তারকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন উগ্র ফতোয়া এর আগে নজিরবিহীনআমির খানের ওপর এই তীব্র রাগের কারণ হিসেবে পরমহংস আচার্য অভিনেতার বৈবাহিক জীবনকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, আমির এ পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছেন এবং তাঁর তিন প্রাক্তন স্ত্রীই হিন্দু পরিবারের সন্তান। আচার্যের দাবি, এটি কোনও সাধারণ বিয়ে নয়, বরং এর পেছনে গভীর চক্রান্ত রয়েছে। হিন্দু মেয়েদের ফাঁদে ফেলে 'লাভ জিহাদ'কে উৎসাহিত করতেই নাকি আমির খান এই কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের মানুষদের রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।” তাঁর মতে, সমাজ ও দেশের সংস্কৃতি বাঁচাতে এই ধরনের মানসিকতার মানুষদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া উচিত।
এই সাক্ষাৎকার চলাকালীন অযোধ্যার রাম মন্দির ট্রাস্টের আর্থিক তছরূপের অভিযোগ নিয়েও সাধু পরমহংস আচার্যকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তবে তিনি এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানান, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের (সুপ্রিম কোর্ট) নির্দেশ মেনেই এই ট্রাস্ট তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে যে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত করছে, তা অত্যন্ত সততার সঙ্গে চলছে।
















