আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকায় ভাগীরথী নদী বক্ষে লালগোলা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস মহিলা সভানেত্রীর স্বামীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত ওই ব্যক্তির নাম নাজির শেখ (৪৯)। তাঁর বাড়ি লালগোলা থানার অন্তর্গত ফকিরপাড়া এলাকায়। রবিবার দুপুর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন নাজির।
নাজিরের স্ত্রী হাসেন বানু বিবি, বর্তমানে লালগোলা ব্লক মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রীর পদে আসীন রয়েছেন। মুর্শিদাবাদের ভোট মিটতেই তৃণমূল নেত্রীর স্বামীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ ইতিমধ্যে নাজিরের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশের তরফ থেকে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর ১২ টা নাগাদ রঘুনাথগঞ্জের বৈকুন্ঠপুর ঘাটে কয়েকজন ব্যক্তি স্নান করছিলেন। সেই সময় ভাগীরথী নদী দিয়ে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ ভেসে যেতে দেখে এক ব্যক্তি দেহটি পাড়ের কাছে তুলে আনেন। এরপরই রঘুনাথগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ মৃত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।
লালগোলা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কোর কমিটির আহ্বায়ক রুমা ব্যানার্জি বলেন, "হাসেন বানু বিবি আমাদের দলের মহিলা ব্লক সহ নেত্রী। যদিও তাঁর স্বামী বর্তমানে সক্রিয় কোনও রাজনীতি করতেন না। হাসেন বানু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে লালগোলা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রায় প্রতিদিন প্রচারে অংশগ্রহণ করেছেন।"
তিনি বলেন, "গতকাল রাতে ব্লক মহিলা সভানেত্রী আমাকে নাজিরের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এরপর রাতেই আমি তাঁকে পুলিশের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। সোমবার সকালেও হাসেন বানু বিবি স্বামীর সন্ধানে লালগোলা থানায় গিয়েছিলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা খবর পাই নাজিরের দেহ রঘুনাথগঞ্জে ভাগীরথী বক্ষে উদ্ধার হয়েছে।"
রুমা ব্যানার্জি বলেন, "এটি খুন, না আত্মহত্যা, না দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু সে সম্পর্কে আমরা কেউই নিশ্চিত নই। তবে হাসেন বানু আমাকে জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারে কোনও অশান্তি ছিল না। গতকাল দুপুরে সে বড় মেয়েকে জঙ্গিপুরে নিয়ে গিয়েছিল ডাক্তার দেখানোর জন্য। বাড়ি ফিরে এসে সে আর স্বামীকে দেখতে পাননি।"
সূত্রের খবর, রবিবার দুপুরে আড়াইটা নাগাদ বাড়ি থেকে খাওয়া-দাওয়া করে বের হয়ে গিয়েছিলেন নাজির। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাঁর সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
মৃত ওই ব্যক্তির ছেলে নাদিম হাসান শেখ বলেন, "গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত বাবার সন্ধান না পেয়ে আমরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে শুরু করি। গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ বাবাকে আমাদের পাশের পাড়ার শেষবারের মতো সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে। এরপর তিনি কোথায় গিয়েছিলেন তার কিছুই আমরা জানি না।"
নাদিম দাবি করেন, "আমার ধারনা বাবাকে খুন করা হয়েছে। তবে এই খুনের পেছনে কে বা কারা দায়ী তা আমরা এখনও জানি না।"
















