বিভাস ভট্টাচার্য: সদ্য শেষ হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার। ক্লান্ত চোখ কিছুটা হলেও খুঁজছে বিশ্রামের হাতছানি। কিন্তু সময় কম। স্থানীয় নেতা–কর্মীদের নিয়ে বসতে হবে ‘মিটিং’–এ। তার ফাঁকেই কথাবার্তা।
পেশায় আইনজীবী উত্তরপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য ব্যানার্জি। সেই রেশ টেনেই তাঁকে প্রশ্ন–বলা হয় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সাক্ষীর চোখ এবং শরীরের ভাষা দেখে আইনজীবীরা বুঝতে পারেন সাক্ষী নির্ভেজাল না ভেজাল। এতদিন ধরে আপনি প্রচার করলেন। আপনার চোখে কী ধরা পড়ল?
শীর্ষণ্য–দেখুন এটা ঠিক আমি উকিলের চোখ দিয়ে বলব না। কিন্তু আমি আমার বাবার সঙ্গে ২০০১ থেকেই নির্বাচনের কাজে যুক্ত আছি। এটা আমার ১০ নম্বর নির্বাচন যেখানে আমি নিজে ময়দানে নেমেছি। সেই সময় সকালবেলায় চিঠি টাইপ করে প্রচারের সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আসতে হত। শুরুটা হয়েছিল আসানসোল থেকে। ২০১০ থেকে এই হুগলিতে। আইনজীবীর চোখ দিয়ে নয়, এমনি সাধারণ চোখে দেখে আমি বুঝতে পারছি মানুষ যথেষ্টই সাড়া দিচ্ছেন। তাঁরা কিন্তু আমায় গ্রহণ করেছেন। তাঁদের শরীরের ভাষা এবং কথা কিন্তু আমার প্রত্যয়টা দৃঢ় করেছে।
উত্তরপাড়া বিধানসভার বিদায়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনা যেত তাঁকে না কি এলাকায় দেখা পাওয়া যায় না। পূর্বসূরির এই ‘দায়ভার’ কতটা বহন করতে হচ্ছে বা হল?
শীর্ষণ্য–বিষয়টা হল এই নিয়ে মানুষের যে একদম কোনও অভিযোগ নেই তা নয়। কিন্তু গত ৪২ দিন ধরে আমি যে জনসংযোগ করেছি সেখানে আমি তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি বিদায়ী বিধায়ক কিন্তু তাঁর বিধায়ক তহবিল থেকে খরচ করেছেন। হয়ত তিনি এটা বোঝাতে পারেননি যে তিনি খরচ করেছেন। আমি কিন্তু বিধায়ক হতে গত ১৭ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে মেলামেশা করিনি। সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান, যোগ দেওয়ার জন্য বারবার উত্তরপাড়ায় এসেছি। হ্যাঁ, এটা ঠিক আমার এখানে জন্ম হয়নি। কিন্তু এখানকার ভূমিপুত্র হয়ে ওঠার জন্য কিছু মর্যাদা হয়ত আমি পাব। এর পাশাপাশি আমি চেষ্টা করেছি তাঁদের যদি কোনও অভিমান থাকে তবে সেই অভিমান সরিয়ে তাঁদের এই আশ্বাস দেওয়া আগামীদিনে শীর্ষণ্যকে অন্তত ঘরের ছেলের মতো তাঁরা পাবেন। আমি তৃণমূল ছাত্র পরিষদ করা ছেলে। এখানকার মানুষ এবং দলীয় কর্মীদের আমি আমার পরিবারের লোক বলেই মনে করি।
এসআইআর, যার জেরে রাজ্য তথা দেশ উত্তাল। আপনার বিধানসভা এলাকায় এর কী প্রভাব পড়েছে?
শীর্ষণ্য–শুধু আমার কেন্দ্রেই প্রায় ৩০,০০০–এর কাছাকাছি হিন্দু ভোটারের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। গোটা রাজ্যে যেভাবে মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে বা যেভাবে লোকের প্রাণ চলে গিয়েছে তাতে আমার বিশ্বাস জনগণ এই হয়রানির জবাব ভোটের বাক্সে দেবেন।
এলাকার কোন সমস্যাগুলো আপনার চোখে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে?
শীর্ষণ্য–নিকাশি ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের সঙ্গে এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ও কলকাতার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা। বেশ কিছু বিষয়ই আমার মাথায় আছে।
আপনার এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের মিনাক্ষী মুখার্জি এবং বিজেপির দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। এঁদের মধ্যে কাকে কত নম্বর দেবেন?
শীর্ষণ্য–দেখুন এঁরা দুজনেই একই মুদ্রার এপিঠ এবং ওপিঠ। বিজেপি এখানে এমনভাবেই প্রার্থী দিয়েছে যাতে সিপিএমের সুবিধা হয়। এখানে বিজেপি ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’র মতো প্রচার করেছে। অনেকটা যেন ‘অ্যালায়েন্স’–এর মতো। কিন্তু তাতে কিছু লাভ হবে না।
আপনার বাবার নাম কল্যাণ ব্যানার্জি। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের চারবারের সাংসদ। এই নামটা আপনার পক্ষে কতটা ‘অ্যাডভান্টেজ‘?
শীর্ষণ্য–বিরাট অ্যাডভান্টেজ। বিষয়টা হল বাড়িতে যদি একজন অভিজ্ঞ মানুষ থাকেন, তা তিনি যে কোনও ক্ষেত্রেরই হোন না কেন তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের তাঁর কাছে একটা শেখার সুযোগ থাকে। বাবা যেহেতু একজন ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’ সেজন্য আমি ছোটবেলা থেকেই তাঁর কাছে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি। এর পাশাপাশি তিনি একজন ‘সিনিয়র পলিটিশিয়ান’। ফলে সেখান থেকেও আমি শেখার সুযোগ পাচ্ছি। এখানে বাবার ১৭ বছরের একটা কাজের ধারা আছে। স্বাভাবিকভাবেই লোকের এটা মনে হবেই কল্যাণ ব্যানার্জিকে যেমন এলাকায় দেখা গিয়েছে এবং কাজ করতে দেখা গিয়েছে তাঁর ছেলেকেও সেরকমভাবেই দেখা যাবে। প্রশ্নটা কিন্তু এটা নয় রাজার ছেলে রাজা হবে কি না। প্রশ্নটা হচ্ছে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তাঁর কাজ করার যোগ্যতা আছে কি না। আমি যোগ্যতা অর্জন করেছি বলেই দল আমায় এই সুযোগটা দিয়েছে। যদি কল্যাণ ব্যানার্জির ছেলে হিসেবেই আমায় প্রার্থী করত তাহলে তো আগেই করতে পারত। এভাবেই আমি বিষয়টা দেখছি।















