আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। বিশেষ করে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিলের শুনানির জন্য একটি আরও পোক্ত আপিল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বিচারপতি বাগচী উল্লেখ করেন, বিহারের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে অন্যভাবে এসআইআর করেছে নির্বাচন কমিশন। বাংলার ক্ষেত্রে কমিশন অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ নামে একটি নতুন ক্যাটাগরি চালু করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, বিহারে এসআইআরের সময় যাদের ২০০২ সালে এসআইআরে নাম ছিল তাদের পরে কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তাদের সেই পূর্ব অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, এসআইআরে নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপ রয়েছে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিচারকদের ওপর। তাঁরা সবসময় ঠিক নাও হতে পারেন। প্রতিদিন হাজারেরও বেশি নথি যাচাই করতে গিয়ে তা ১০০% নির্ভুল হবে সেটা আশা করাও অবাস্তব।

নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া যদি যদি ৭০%ও নির্ভুল হয় সেটাও ‘অসাধারণ’ হবে। এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি বাগচীর বেঞ্চ একটি রিট পিটিশনের শুনানি করছিল, যেখানে আবেদনকারীরা ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানান।

আপিল মঞ্জুর হলে যাতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারেন সেই আবেদনও জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে। এদিন নির্বাচনের কমিশনের আইনজীবীর ব্যাখ্যাতেও সন্তুষ্ট হয়নি সুপ্রিম কোর্ট।

আদালতের পর্যবক্ষণ, ‘এটা একে অপরকে দোষারোপের কোনও বিষয় নয়। দুই সাংবিধানিক সংস্থার মাঝে চাপে পড়তে হচ্ছে ভোটারদের।’ তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ১৯টি ট্রাইব্যুনালের ওপর লক্ষাধিক আপিলের নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব রয়েছে।

আবেদনকারীদের আইনজীবী জানান, নির্বাচন কমিশন আপিল ট্রাইব্যুনালকে প্রয়োজনীয় নথি দিতে সহযোগিতা করছে না। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এই মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অনীহা প্রকাশ করে বলেন, আবেদনকারীদের আপিল প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা আপিল মঞ্জুর হলে ‘প্রয়োজনীয় ফলাফল কার্যকর হবে’ বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বেঞ্চের তরফে।