আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবন থেকে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করলেন মমতা ব্যানার্জি। তবে তার আগে তুলোধোনা করতে ছাড়লেন না বিজেপিকেও।
তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। মমতার কথায়, 'দেশে দু'জন কাজ করে। এক মোদি, আর একজন তাঁর ভাই অমিত শাহ। মোদি আর অমিত শাহ মিলে দেশভাগের চক্রান্ত করছে। রাজনৈতিক থেকে গণতান্ত্রিক চক্রান্ত করা হচ্ছে।'
মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'বিজেপি বাংলা দখল করে বাংলা রাজ্যকেই তুলে দিতে চাইছে। এর আগে উত্তরবঙ্গকে ভেঙে আলাদা রাজ্য করতে চেয়েছিল। শুনছি, ভোটের পর আবার এটা নিয়ে বসবে।'
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, 'বাংলাকে যদি রক্ষা করতে হয়, বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দিন। ওরা যদি টাকা দেয়, নেবেন না। এগুলো সব চুরি করা টাকা। বাংলার অস্মিতা, ভাষা, ইতিহাস বজায় থাকুক, এটা বিজেপি চায় না।'
মমতার আরও দাবি, 'বিজেপি শাসনে দেশে কোনও আইন-সংবিধান নেই। বাংলার মানুষ নরেন্দ্র মোদিকে পছন্দ করছে না, বিজেপি ক্ষমতায় আসবে না।'
বক্তব্যের শুরুতেই নির্বাচন কমিশন, গেরুয়া শিবিরকে একহাত নেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। একেবারে শুরুতেই তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের চক্রান্ত অনেক লক্ষ্য করেছি। কিন্তু এবারের চক্রান্ত সমস্ত চক্রান্ত ছাড়িয়ে গিয়েছে।' যেন তেন প্রকারে বাংলা দখল করার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেন মমতা।
তৃণমূলের ইস্তেহারে উল্লিখিত, 'বাংলার জন্য দিদির দশ প্রতিজ্ঞা'-
লক্ষ্মীদের জয়, স্বনির্ভরতা অক্ষয়
যুবদের পাশে জীবীকার আশ্বাস
বাজেটে কৃষি, কৃষকের হাসি
নিশ্চিত বাসস্থান চিন্তার অবসান
ঘরে ঘরে নল, পরিশ্রুত পানীয় জল
সুস্বাস্থ্যের অধিকার, বাংলার সবার
শিক্ষাই সম্পদ, ভবিষ্যৎ নিরাপদ
পূর্বের বাণিজ্যের কাণ্ডারী, বাংলাই দিশারী
প্রবীণদের পাশে, যত্নের আশ্বাসে
প্রশাসনিক সুবিধায় নতুন দিগন্ত বাংলায়
এদিন মমতা বললেন-
দেউচা পাঁচামি হয়ে গেলে, আগামী একশ বছর বিদ্যুতের কোনও সমস্যা হবে না।
রঘুনাথপুর, শালবনিতে বিনিয়োগের কথা বলেন মমতা।
প্রতি জেলায় জেলায় সেলফ হেল্প গ্রুপের জন্য বিশেষ জায়গা বরাদ্দ করা হবে।
মমতা বললেন, এবার রাজ্যে শুরু হবে দুয়ারে চিকিৎসা। প্রতি বছর, প্রতি ব্লকে, টাউনে, দুয়ারে স্বাস্থ্যের ক্যাম্প হবে।
বাংলা শিক্ষায়তনগুলির জন্য বড় সিদ্ধান্ত। কয়েকহাজার বিদ্যালয় আপগ্রেড করা হবে। সেখানে ই-লার্নিং থেকে শুরু করে থাকবে একাধিক উন্নত প্রযুক্তি।
প্রবীণদের জন্য বড় অঙ্গীকারের কথা বললেন মমতা ব্যানার্জি।
প্রশাসনিক সুবিধায় রাজ্যে সাত থেকে দশটি নতুন জেলা করা হবে।
ইদের পর থেকে প্রচার শুরু করবে তৃণমূল কংগ্রেস।
আগামী দিনে রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান হবে।
