আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে কাটল 'জট'। ছাব্বিশের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে পারছেন স্বপ্না বর্মন। নির্বাচন কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ নথিতে জানানো হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী স্বপ্না বর্মন নির্বাচনে লড়ার যোগ্য।
এই গোটা বিষয় নিয়ে জলপাইগুড়ি সদর বিধান সভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা এসসি ওবিসি জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, "সোমবার রাজগঞ্জ বিধানসভার জন্য একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী স্বপ্না বর্মনই মনোনয়ন পত্র সাবমিট করবেন সকাল ১১ টায়। এক্ষেত্রে সন্দেহের অবকাশ নেই। আইনি জটিলতা কেটে গিয়েছে। প্রার্থী স্বপ্না বর্মন।"
'জল্পনা' সত্যি করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন স্বপ্না বর্মন। রেলের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তাঁর প্রার্থীপদ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আজ মিটে গেল। নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, স্বপ্নার বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ নেই যার জন্য তিনি ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না।
দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে নির্বাচনে লড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন শুধুমাত্র 'রাত কেটে যাওয়ার অপেক্ষা' স্বপ্না বর্মনের। মনোনয়ন জমা দেওয়ার অপেক্ষা। তারপরই পুরোদমে প্রচার শুরু করবেন তিনি, দাবি স্বপ্না অনুগামীদের।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের আলিপুরদুয়ার জংশনে স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত থাকাকালীন, গত ২৭ মার্চ ২০২৬-এ তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। অভিযোগ, সরকারি নিয়ম ভেঙে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। রীতিমত দেখা যায় কলকাতার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে মন্ত্রী শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, গৌতম দেব সহ আরও একাধিক তাবড় তাবড় রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে নিজেকে তৃণমূল কর্মী সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেন স্বপ্না বর্মন।
দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরের জলপাইগুড়ি জেলায় স্বপ্না বর্মন-কে নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ছিল। অনেকেই দাবি করেছিলেন এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন স্বপ্না। তবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরেই রাজনৈতিক মহল স্পষ্ট বুঝে গিয়েছিল তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। অর্থাৎ, জলপাইগুড়ি জেলার কোনও একটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পদের প্রার্থী হচ্ছেন স্বপ্না। অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ আসনটিতে তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁকেই ভরসা করে প্রার্থী পথ তুলে দেন।
তারপর একাধিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন রাজগঞ্জ বিধানসভার তিনবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায়। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন বিপুল ভোটে এই আসনটি হারবে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু দিন দুয়েক পর এই মোহভঙ্গ হয়, মুখ্যমন্ত্রীর এক ফোনেই। তারপর দেখা যায় খগেশ্বর রায় প্রাক্তন বিধায়ক রাজগঞ্জ বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত এই প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের হয়ে প্রচারে নামেন। এরপরই জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে জলপাইগুড়ি বিধানসভার এবারের তৃণমূল মনোনীত প্রার্থী তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা এসসি ওবিসি জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে রাজগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল মনোনীত প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে আসেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি।
জানা গিয়েছে, মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ ডাকেন। স্বপ্না বর্মনের নমিনেশন উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই। তবে আইনি জটিলতা তৈরি করে দিয়েছে বিজেপি সরকার। আইনি লড়াইয়ে স্বপ্নাই পার্টি হবে এমন হুঙ্কার দিয়েছেন অভিষেক ব্যানার্জি।
তারপর দীর্ঘ টালবাহানা। জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলা। আবারও যেন নাটকীয় মোড় দেখা গেল জলপাইগুড়িতে। গত রাতে অভিষেক ব্যানার্জি প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি রেখে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলেন বলে দাবি করেন তিনবারের বিধায়ক। কেননা আইনি জটিলতায় আজ মনোনয়নপত্র জমা করতে পারেনি স্বপ্না বর্মন।
সব মিলিয়ে 'স্বপ্না বর্মনের পরিবর্তে খগেশ্বর রায় প্রার্থী হতে চলেছেন', এমন গুঞ্জন গোটা দিনভর চলেছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে রেলওয়ে দপ্তরের তরফে ক্লিনচিট পত্র পরিষ্কার জানিয়ে দিল প্রার্থী হতে চলেছেন স্বপ্না বর্মন।
সোমবার জলপাইগুড়ি সদর মহকুমা কার্যালয়ে নমিনেশন প্রদান করবেন স্বপ্না। বলা বাহুল্য, কমিশনের তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, স্বপ্না বর্মনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা দুর্নীতির মতো কোনও গুরুতর অভিযোগ নেই। ফলে প্রার্থী হওয়ার পথে আর কোনও আইনি বাধা রইল না তাঁর।
এই খবরে খুশির হাওয়া তাঁর অনুগামীদের মধ্যে। তবে গোটা বিষয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্বপ্না বর্মন মুখ খুলতে না চাইলেও, জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে যেন একটা টালবাহানা পরিস্থিতি। পুরোটাই সময় বলবে। রাজগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কে হচ্ছে তা সোমবার মনোনয়নপত্র জমা করার পরেই জানা যাবে।
















