আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বড় ধাক্কা রাজন্যা হালদারের। মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেল তাঁর। আসানসোল কেন্দ্রের তাঁর আচমকা মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। এক সময় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজন্যা৷ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছিলেন তিনি৷
এদিকে নিজের মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন তিনি৷ অভিযোগ, ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় ১০ জনের ছ'জন প্রস্তাবক পথে আটকে পড়েন। পরবর্তীতে বিকল্প ছ'জনকে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার 'অজুহাতে' তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজন্যার সাফ কথা, এর পিছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে৷ অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, ওই একই দিনে জামুড়িয়ার এক প্রার্থী বিকেল ৫ টা নাগাদ গিয়েও মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছেন৷ ঘটনার জেরে রাজন্যা নির্বাচন কমিশন ও পশ্চিম বর্ধমানের ডিস্ট্রিক্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন। এখানেই থামছেন না তিনি। এমনকী প্রয়োজনে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও বলেছেন।
উল্লেখ্য, আসানসোল কেন্দ্রের মনোনয়ন জমা ও স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে৷ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে রাজন্যার মনোনয়ন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। ১০ এপ্রিল স্ক্রুটিনির পরই জানা যাবে সবটা। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজের রাজনৈতিক দল তৈরি করেন একদা তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেত্রী রাজন্যা হালদার। নাম 'জনসংগ্রাম মঞ্চ'।
রাজন্যার সংযোজন, "২০২৬ আমাদের কাছে বিন্দু, সিন্ধু তৈরি করতে পারব না, সরকার বদলাতে পারব না। হারি কি জিতি, লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরব না।”
এরপরেই রাজন্যা ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’-এর ইশতেহার প্রকাশ করেন। ইশতেহারে কর্মসংস্থান, চাকরি সঙ্কট, মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করা, নারী সুরক্ষা এবং নারীর অর্থনৈতিক বিকাশ সুরক্ষা করা, শিশুদের পুষ্টির বিকাশ, শিক্ষার উন্নয়ন ইত্যাদি।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ২০২৩ এর ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর বক্তৃতা সকলের নজর কেড়েছিল। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন করেও নজর কাড়েন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি একদা পছন্দের পাত্রী রাজন্যা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেত্রীও ছিলেন। আর জি করের ঘটনার পর যখন রাজ্য জুড়ে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে সেই সময় এই ঘটনার আধারে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি বানিয়েছিলেন তিনি। তারপর দল তাঁকে সাসপেন্ড করে। তারপর জল্পনা তীব্র হয়েছিল যে, তিনি বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। যদিও সেই জল্পনা সূর্যের আলো দেখেনি। অবশেষে নিজের দল তৈরি করেন রাজন্যা।















