আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিভেদ নয়, মিলনই যে বাংলার চিরকালীন সংস্কৃতি, তার প্রমাণ মিলল জলপাইগুড়ি শহরে। একদিকে যখন কড়া নিরাপত্তায় শহর জুড়ে রামনবমীর মিছিল চলছে, তখনই কদমতলা এলাকায় দেখা গেল এক টুকরো 'অন্যরকম' ছবি। মিছিলে অংশ নেওয়া ক্লান্ত পুণ্যার্থী ও সাধারণ পথচারীদের হাতে ঠান্ডা পানীয় তুলে দিলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন।

উৎসব ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য শহরের প্রতিটি মসজিদের সামনে মোতায়েন ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। খোদ থানার আইসি-ও ছিলেন সতর্ক। কিন্তু সেই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মাঝেও কোনও তিক্ততা নয়, বরং ফুটে উঠল ভ্রাতৃত্বের অনন্য নজির।

তৃণমূলের টাউন ব্লক সংখ্যালঘু সেলের উদ্যোগে এই পানীয় জল বিলির কর্মসূচি নেওয়া হয়। চৈত্রের তপ্ত দুপুরে মিছিলে শামিল মানুষের তেষ্টা মেটাতে এগিয়ে আসেন এলাকার মুসলিম যুবকরা। তাঁদের কথায়, "উৎসবের রং আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানুষের পরিচয় এক। গরমের দিনে জলটুকু মুখে তুলে দিতে পেরে আমরাও খুশি।"

জাত-পাতের ভেদাভেদ ভুলে এই 'মানবিক' উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরবাসী। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কড়া নিরাপত্তার মাঝেও জলপাইগুড়ির এই ছবি প্রমাণ করল যে, সম্প্রীতির আবহ আজও অটুট।

অন্যদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অস্ত্র হাতে মিছিল! শুধু তাই নয়, বাজলো তারস্বরে ডিজে। মিছিলে অংশ নিলেন খোদ বিজেপি প্রার্থী নিজেই। শুক্রবার রাম নবমীর মিছিল বেরোলো চুঁচুড়ায় একাধিক জায়গায়। মিছিলে সামিল পুরুষ মহিলা কিশোর সকলের হাতেই দেখা গেলো অস্ত্র। হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, কোনও মিছিলে অস্ত্র এবং ডিজে বক্স নিয়ে বেরোনো যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই হল রামনবমীর মিছিল। 

অস্ত্র হাতে সেই মিছিলের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেলো খোদ বিজেপি প্রার্থীকে। এদিন বিকেলে রামনবমীর মিছিল বেরোয় ব্যান্ডেল মোড়, কাপাসডাঙ্গা, রবীন্দ্রনগর, পেয়ারাবাগান, খাদিনা মোড় সহ একাধিক জায়গা থেকে। চুঁচুড়া শহর প্রদক্ষিণ করা হয়।