মিল্টন সেন, হুগলি: হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অস্ত্র হাতে মিছিল! শুধু তাই নয়, বাজলো তারস্বরে ডিজে। মিছিলে অংশ নিলেন খোদ বিজেপি প্রার্থী নিজেই। শুক্রবার রাম নবমীর মিছিল বেরোলো চুঁচুড়ায় একাধিক জায়গায়। মিছিলে সামিল পুরুষ মহিলা কিশোর সকলের হাতেই দেখা গেলো অস্ত্র। হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, কোনও মিছিলে অস্ত্র এবং ডিজে বক্স নিয়ে বেরোনো যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই হল রামনবমীর মিছিল।

অস্ত্র হাতে সেই মিছিলের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেলো খোদ বিজেপি প্রার্থীকে। এদিন বিকেলে রামনবমীর মিছিল বেরোয় ব্যান্ডেল মোড়, কাপাসডাঙ্গা, রবীন্দ্রনগর, পেয়ারাবাগান, খাদিনা মোড় সহ একাধিক জায়গা থেকে। চুঁচুড়া শহর প্রদক্ষিণ করা হয়।

সামনের সারিতে দেখা গেলো চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগকে। পাশাপাশি অস্ত্র হাতে মিছিলে দেখা যায় হাওড়া হুগলি বিভাগের জয়েন্ট কনভেনর সুরেশ সাউকে। মিছিলে একাধিক মহিলার হাতেও দেখা যায় অস্ত্র। অস্ত্রের ঝলকানির পাশাপাশি তারস্বরে ডিজে বক্স বাজতেও দেখা যায়। মিছিলে অস্ত্র হাতে থাকা মহিলা নমিতা কুন্ডু বলেন, "ত্রিশূল আমাদের সহ্যর প্রতীক। এগুলি হিন্দু ধর্মের শক্তির প্রতীক। হিন্দু ধর্ম দিকে দিকে নিপিড়িত হচ্ছে। দেবী দুর্গার এই অস্ত্র আমরা সকল মা, বোনেদের হাতে তুলে দিতে চাই। আত্মসম্মান রক্ষার জন্য এই ত্রিশূলের প্রয়োজন আছে। এই বাংলায় রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে। আমরা অভয়া কাণ্ড দেখেছি। অভয়ার মা কত কষ্ট পেয়েছে। তাই চাইবো আর যাতে কেও অভয়া না হয়। সকল মা বোনেদের বলবো আপনারা আসুন অস্ত্র তুলে নিন, শত্রুদের বিনাশ করুন।"
অস্ত্র মিছিল এবং ডিজে বাজানো প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব বলেছেন, "ডিজে বাজাতে ওদের বারণ করা আছে। ওদের কাছে একটি মিউজিক সিস্টেম আছে কিন্তু ডিজে বাজাতে দেওয়া হয়নি। আমি একটা মিছিল দেখেছি যেখানে অস্ত্র ছিল। কিন্তু তাঁদের বলার পর তাঁরা অস্ত্র সরিয়ে দিয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী ব্যক্তিগত ভাবে হাঁটতে পারেন। কিন্তু হাইকোর্টের অর্ডার অনুযায়ী কোনও রকম রাজনৈতিক বক্তব্য তিনি দিতে পারবেন না। যাঁরা অস্ত্র নিয়ে বেরিয়েছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এবছরও তাঁদের আগাম নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। যাঁরা কথা শুনবেননা তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ছবি পার্থ রাহা।















