আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার ভোটের প্রথম দফাতেই তৃণমূল প্রার্থীদের উজার করে ভোট দিয়ে বিজেপিকে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি। দাবি করেছিলেন, দ্বিতীয় দফার (২৯ এপ্রিল) ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপির কোমর, হাঁটু ভাঙতে হবে। এই দফায় হবে বিজেপির দফারফা। কিন্তু, বৃহস্পতিবার তৃণমূল 'সেকেন্ড-ইন-কমান্ড'-এর দাবি, প্রথম দপাতেই পদ্ম বাহিনীর 'দফারফা' হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, "প্রথন দফার ভোটেই বিজেপির রফাদফা করে দিয়ে এসেছি।"

পশ্চিমবঙ্গে সবসময়ই ভোটদানের হার উপরের দিকে। কিন্তু, এবার সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। সন্ধে ৬টা পর্যন্চ ভোট পড়েছে ৯১.৪৬ শতাংশ। এই ব্যাপক হারে ভোটারদের ভোটদানেই কী প্রবল অত্মবিশ্বাসী অভিষেক ব্যানার্জি? সে উত্তর মিলবে আগামী ৪ঠা মে, বিধানসভা ভোটের গণনায়।

প্রথম দিনের ভোটে অন্যান্য বুথ বা ব্লক স্তরের তৃণমূল কর্মীদের মতোই তিনিও যে প্রায় রাত জেগেছেন সেকথা প্রচারে তুলে ধরেন ডায়মন্চ হারবারের তৃণমূল সাংসদ। বলেন, "নির্বাচন কমিশ ও এজেন্সিদের মাতব্বরি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার, আমি রাত ৩টে পর্যন্ত জেগে আমি আমার প্রত্যেক তৃণমূল কর্মীদের অতন্ত প্রহরীর মতো তাঁরা যেমন বুথ রক্ষা করেছেন, আমিও তাঁদের সঙ্গে জেগে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছি। সাড়ে তিনটে ঘুমোতে গিয়ে ভোর পাঁচটায় উঠেছি। সেই তেকে প্রত্যেকটা বুথের সঙ্গে আমার কন্ট্রোলরুম, আমার অফিস আজ যোগযোগা রেখে চলেছিল। প্রথন দফায় ভোটে আজ বিজেপির রফাদফা করে দিয়ে এসেছি।"

বুধবারই রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জোড়াফুল প্রার্থী অদিতি মুন্সির সমর্থনে প্রচারে অভিষেক ব্যানার্জি দাবি কেরছিলেন, "৭৭টি আসনও পাবে না বিজেপি। ৫০-এ আটকে যাবে ওরা। আর মাত্র সাতদিন পর রাজনীতির ময়দানে থাকবে না বিজেপি।" প্রথমদফা ভোট শেষে তাঁর, 'রফাদফা' মন্তব্য যেন তারই প্রতিফলন।

তৃণমূলকে মানুষ কেন ভোট দেবে?  তার ব্যাখ্যাও করেছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, "তৃণমূল জিতলে মিলবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা, মাথার উপর ছাদ, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল, দুয়ারে চিকিৎসা।" সেই সঙ্গে অভিষেকের খোঁচা, "মমতা ব্যানার্জি লড়াই-সংগ্রামে ভয় পেয়ে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা। তাই কুরুচিকর ভাষায় দিদিকে আক্রমণ করছেন। আমি ওই বিজেপির নেতাদের বলব, মাথা ঠান্ডা রাখুন। আপনাদের পরাজয় এখন সময়ের অপেক্ষা। ওরা ভুলে গিয়েছে যে মমতার পাশে আছে জনতা।" 

এ দিন  মেটিয়াবুরুজের সভায় অভিষেক ব্য়ানার্জির উপস্থিতিতে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন আজাজ আহমেদ আনসারি। নেটিয়াবুরুজ থেকে আজাজ আহমেদ আনসারি ছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী।