আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশে রদবদল অব্যাহত। এবার কমিশনের কোপে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর। শুক্রবার তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। তাঁর বদলে বিধাননগরের নতুন পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে ত্রিপুরারি অথর্বকে। শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে তাঁকে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

মুরলীধরকে তামিলনাড়ুতে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠাতে চেয়েছিল কমিশন। পরে সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। গত ১৮ মার্চ তাঁকে তামিলনাড়ির আরিয়ালুর এবং জয়ানকোন্ডম বিধানসভার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একদিন পরেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কমিশন। যদিও বাকি আইপিএসদের ক্ষেত্রে বদলির নির্দেশ বহাল থাকে। তাঁদের কেরল এবং তামিলনাড়ুতে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানো হয়। মুরলীধর বিধাননগরের কমিশনার পদেই ছিলেন তারপর থেকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করে রাজ্য। এবার কমিশনের কোপে পড়লেন তিনিও। 

রাজ্যে ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে একের পর এক আধিকারিক বদলেই চলেছে কমিশন। এখনও পর্যন্ত ৪৫০ জনের বেশি আধিকারিকে বদলি বা সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। কয়েকদিন আগে ১৯ জন এসআই পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিককে বদলি করে কমিশন। এই ১৯ জন আধিকারিক নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এছাড়া সরানো হয়েছে আগে বিভিন্ন পুলিশ জেলার মোট ৮১ জন ইন্সপেক্টরকেও।

মার্চ মাসে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই সরিয়ে দেওয়া হয় রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের নতুন ডিজি করা সিদ্ধনাথ গুপ্তকে। কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার করা অজয় কুমার নন্দাকে। গত ১৪ এপ্রিল বেলডাঙা থানার আইসি’‌কে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। বেলডাঙা থানার নতুন আইসি করা হল আশুতোষ রাইকে। তিনি হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের ইনস্পেক্টর ছিলেন। সম্প্রতি বেলডাঙার এসডিপিও বদল করা হয়েছিল। 

পুলিশে বদলির পাশাপাশি রাজ্যের প্রশাসনিক রদবদলও করেছে কমিশন। নন্দিনী চক্রবর্তীকে রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে নিয়োগ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। এর আগে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ছিলেন জগদীপ প্রসাদ মিনা।