আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'ইসবার ২০০ পার' (এবার ২০০ পার), একুশের বিধানসভা ভোটের আগে এই স্লোগান তুলেই বাংলার নির্বাচনী ময়দানে ঝড় তুলেছিলেন অমিত শাহ। কিন্তু সেই নাড়া ব্যর্থ করে দেন বঙ্গবাসী। পাঁচ বছর পর ফের বাংলায় বিধানসভা ভোট। মোদি-শাহ এসে প্রচার করছেন। তাঁরা আর সেই স্লোগান তোলেননি। কিন্তু, এ রাজ্য়ে প্রচারে এসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতার মুখে সেই ২০০ পার-এর স্লোগান। বৃহস্পতিবার বাংলার আলিপুরদুয়ারে একটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, " এনডিএ অসমে ১০০ এবং পশ্চিমবঙ্গে ২০০ আসনে জয়লাভ করবে।"

হিমন্তের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্য়ানার্জি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শাসন নিয়ে ভীত।

এই বিজেপি নেতার দাবি, অসম ও ত্রিপুরায় ইতিমধ্যেই কঠোর সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। হিমন্ত বলেন, "আমরা অসম ও ত্রিপুরার সীমান্ত সিল করার পদক্ষেপ করেছি। এখন পশ্চিমবঙ্গেও সীমান্ত সিল করার সময় এসেছে।"  

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন যে, "অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গে এক ধরনের জনবিন্যাসগত পরিবর্তন ঘটছে।" তাঁর মতে, "রাজ্যে হিন্দুদের জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশি মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।"

কোচবিহার দক্ষিণে আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময়, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মমতা ব্যানার্জির সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "মমতা দিদি বলছেন যে, যদি বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসে, তবে তারা আমিষ খাবার নিষিদ্ধ করে দেবে। আমি তাঁকে বলতে চাই, দয়া করে অসমে আসুন; সেখানে আমাদের খুব সুস্বাদু আমিষ খাবার পাওয়া যায়। কেউ কি আপনাকে বলেছে যে, আমিষ খাবার বন্ধ করে দেওয়া হবে? তাহলে মমতা দিদি এত ভয় কীসের? তিনি ভীত এই কারণেই যে, যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তবে আমরা গরুর মাংস এবং গো-হত্যা নিষিদ্ধ করে দেব।" 

তিনি আরও বলেন, "বিজেপি অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে চলেছে। আর যদি বিজেপি বাংলায় সরকার গঠন করে, তবে এই আইন এখানেও নিয়ে আসা হবে। মমতা দিদি ভীত, কারণ বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমরা 'বহুবিবাহের এই কারখানা' বন্ধ করে দেব।"

হিমন্তের ক্যাবিনেট মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা, জয়ন্ত মল্লবরুয়া, রঞ্জিত কুমার দাস, বিমল বোরা, ড. রণোজ পেগু, রূপেশ গোয়ালা, কৃপানাথ মল্লাহ, রাজদীপ রায়, কৃষ্ণেন্দু পাল এবং কৌশিক রায়ের মতো বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ (যাদের সঙ্গে রয়েছেন সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, বেশ কয়েকজন বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রবীণ নেতারা) ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারে বাংলার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে রয়েছেন। 

২৯৪ সদস্যবিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা করা হবে ৪ মে।