আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিরোধী জোটের অনড় মনোভাবেক কাছে পরাজিত বিজেপির আস্ফালন। সংসদে আটকে গিয়েছে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংশোধনী বিল। শুক্রবারের ওই ঘটনার পরই বিজেপি-র বিরুদ্ধে চড়া সুর মমতা ব্যানার্জির। ভোটাভুটিতে গেরুয়া শিবিরের হার তুলে ধরে তৃণমূল সুপ্রিমোর সাফ দাবি, "বিজেপির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে।"
তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত শনিবার হাওড়ার পাঁচলার উলুবেড়িয়া পূর্বের নেতাজি সংঘের মাঠে আয়োজিত এক জনসভা বক্তব্য রাখেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি দাবি করেন, সংস্কারের নামে মহিলা সংরক্ষণ বিল আসলে দেশকে ‘বিভক্ত’ করার একটি অপচেষ্টা ছিল। তাঁর হুঁশিয়ারি, "বিজেপির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। ওদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, অন্যদের কাঁধে ভর করে টিকে আছে। সংসদে আমরা ওদের হারিয়েছি, খুব শীঘ্রই দিল্লি থেকেও ওদের সরাব।"
প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার আড়ালে কেন্দ্র আসলে বাংলাকে তথা সারা দেশকে ভাগ করার চক্রান্ত করছে বিজেপি, অভিযোগ করেন মমতা ব্যানার্জি।
লোকসভা আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া এই বিতর্কিত বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় খারিজ হয়ে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেস ১৯৯৮ সাল থেকেই নারী সংরক্ষণের জন্য লড়াই করছে এবং বর্তমানে সংসদে তাঁদের মহিলা সাংসদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, "নারী সংরক্ষণ নিয়ে বিজেপির উচিত আমাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া।"
নির্বাচনী জনসভা থেকে অন্যান্য রাজ্যে বাঙালিদের ওপর আলোচিত হেনস্তা নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর প্রশ্ন, কেন অন্য রাজ্যের মানুষ, বাংলায় অবাধে আসতে পারলেও বাঙালিদের বাইরে 'বহিরাগত' হিসেবে দেখা হয়?
এছাড়াও, রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে সাম্প্রতিক আয়কর হানার ঘটনাকেও "রাজনৈতিক প্রতিহিংসা" বলে কটাক্ষ করেন মমতা। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে আত্মবিশ্বাসের সুরে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আগে আমরা বাংলা জিতব, তারপর আমাদের লক্ষ্য হবে দিল্লি।”















