আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে ঝড় তুললেন মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ। শনিবার জিয়াগঞ্জ- আজিমগঞ্জ পরিমণ্ডলের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জনসংযোগ সারলেন তিনি। দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন গৌরীশঙ্করবাবু।

শনিবাসরীয় প্রচারে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি নিশানা করেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, “জয় বাংলা হল বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান।” পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি  বলেন, “বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান আর থাকবে না। তখন পশ্চিমবঙ্গের স্লোগান হবে, জয় পশ্চিমবাংলা।” তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ স্লোগানকেও ‘বাংলাদেশের স্লোগান' বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

 এদিন ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে গৌরীশঙ্কর বলেন, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি একসময় রক্তক্ষয়ী লড়াই করে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সেই অবদানকে অস্বীকার করে রাজ্যকে ফের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” আরও কড়া সুরে তিনি বলেন “বিজেপি ক্ষমতায় এলে যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেবে, তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানোর বন্দোবস্ত করব। এই মাটিতে থাকতে গেলে বলতে হবে ‘ভারত মাতা কি জয়’ অথবা ‘জয় পশ্চিমবাংলা’। বাংলাদেশ-প্রীতি এখানে চলবে না।”

তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকে ‘অপশাসন’ আখ্যা দিয়ে গৌরীশঙ্কর বলেন, “আমাদের কর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। তবু কেউ বিক্রি হননি, মাথাও নত করেননি। আমরা ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের বেকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেব। মানুষের জন্য লড়াই করছি, ভবিষ্যতেও করব।”

আজ সকাল থেকে সকাল থেকে জিয়াগঞ্জ - অজিমগঞ্জ পুরসভার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ সারেন তিনি। এরপর মুর্শিদাবাদ পুরসভার লালবাগ এলাকায় প্রচারে যান। তারপর দুপুরে  বিজেপি কার্যালয়ে সাংগঠনিক বৈঠকেও অংশ নেন তিনি। এক কথায় বলতে গেলে ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ গেরুয়া শিবিরের এই প্রার্থী।