আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর অধ্যাপকদের মধ্যে নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টনকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মাইক্রো–অবজার্ভার হিসেবে ট্রেনিং নেওয়ার পর হঠাৎ করে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে একাংশের মধ্যে ক্ষোভ চরমে উঠেছে। এই আকস্মিক পরিবর্তন প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ঘাটতিকে সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অধ্যাপকরা জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁদের মাইক্রো–অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী গত ২৮ মার্চ তাঁরা নির্ধারিত প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে নতুন নিয়োগপত্রে জানানো হয়, তাঁদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর জন্য আবার ১৬ এপ্রিল নতুন করে প্রশিক্ষণের দিন ধার্য করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এই দুই দায়িত্বের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মাইক্রো–অবজার্ভাররা সাধারণত নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং রিপোর্ট তৈরি করেন, অন্যদিকে প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর একটি সম্পূর্ণ পোলিং বুথ পরিচালনার দায়িত্ব বর্তায়–যা অনেক বেশি জটিল এবং চাপের। 


অভিযোগ উঠেছে, এই হঠাৎ পরিবর্তন শুধু বিভ্রান্তিই তৈরি করছে না, বরং বাস্তব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যারও সৃষ্টি করছে। অধ্যাপকদের একাংশের দাবি, পর্যাপ্ত সময় ও প্রস্তুতি ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপরেও তার প্রভাব পড়তে পারে। একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁদের মূল দায়িত্ব শিক্ষা প্রদান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ সামলানো। তার পাশাপাশি এমন গুরুদায়িত্ব পালন করতে হলে স্পষ্ট নির্দেশিকা ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ থাকা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, প্রায় দেড়শো অধ্যাপক ও আধিকারিক এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। 

এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপকদের একাংশ ভারতের নির্বাচন কমিশন–এর কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে চলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দায়িত্ব পালনে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই, তবে দায়িত্বের প্রকৃতি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুকূল না হলে আইনি পথেও হাঁটার কথা ভাবছেন তাঁরা।

 
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের কলেজের অধ্যাপিকা রূপা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলা শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে ওঠে। সেই মামলায় নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হয়। কোর্টের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পারায় কমিশনের দেওয়া নিয়োগপত্র বাতিল করে দেন বিচারক। এই মামলায় বিশ্বভারতীর অধ্যাপকরা যুক্ত হতে চাইলে বিচারক তাদের ভিন্নভাবে মামলা করার অনুমতি দেন বলে জানা গিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকরা ইতিমধ্যেই একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। অধ্যাপকদের পক্ষে সওয়াল করবেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ফলে গোটা বিষয়টি এখন আইনি লড়াইয়ের দিকেই এগোচ্ছে। 

তবে এই পুরো ঘটনাকে ঘিরে এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচন–পূর্ব এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র অধ্যাপকদের মধ্যে অসন্তোষই বাড়াচ্ছে না, বরং নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। এখন আদালতের রায় এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।