মিল্টন সেন, হুগলি, ২৫ মার্চ: সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে অ্যাডজুডিকেশনে উত্তরপাড়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর নাম। এর আগে বাবার সঙ্গে প্রচারে তাঁকে দেখা গেলেও প্রথমবারের জন্য নির্বাচনে লড়াই করছেন শীর্ষণ্য ব্যানার্জি। সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনের তরফে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সেখানেও অ্যাডজুডিকেশনের গেড়ো কাটল না বেশ কিছু তৃণমূল প্রার্থীর। সেই তালিকায় নাম রয়েছে উত্তরপাড়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জির ছেলে শীর্ষণ্যর।

তালিকা অনুযায়ী এখনও শীর্ষণ্য অ্যাডজুডিকেশনে রয়েছেন। আর সেই নিয়ে তাঁর রাতের ঘুম উড়েছে। অনিশ্চয়তা! কি করে নমিনেশন জমা দেবেন?‌ সেই চিন্তা তাঁকে কিছুতেই স্বস্তি দিচ্ছে না। এতদিন আদালতে অন্যের জন্য লড়াই করেছেন। নিজের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে এবার হয়তো নিজের জন্যই আদালতে দাঁড়াতে হবে তাঁকে।

বুধবার বিস্ফোরক তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য ব্যানার্জি বলেন, ‘‌শাহরুখ খান বলেছিলেন ‘‌মাই নেম ইজ খান, আই এম নট এ টেররিস্ট, ঠিক তেমনই আামকেও কি বলতে হবে মাই নেম ইজ ব্যানার্জি, আই এম নট এ মুসলিম।’‌ এদিন শীর্ষণ্য বলেছেন, ‘‌আমার নাম এখনও আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে রয়েছে। বাংলার হাজার হাজার মানুষও আমার মতো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এটা খুবই সাধারণ। একটা চিন্তা তো রয়েই যাচ্ছে। এখনও নমিনেশনের দেরি আছে। আশা করা যায় তার মধ্যে নাম চলে আসবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে এই যে মানসিক অত্যাচার করছে, সেটা অমার্জনীয়। এটা বিজেপির চক্রান্ত। ওনারা ভেবেছিলেন এটা করে ওনাদের দাবিটাকে প্রতিষ্ঠিত করার যে এখানে অনেক রোহিঙ্গা মুসলমান আছে। কিন্তু সেটা প্রমাণ করতে পারেননি। সর্বোপরি তার রেজাল্ট হল অনেক বৈধ ভোটারের নাম বাদ চলে গেল। হাজার হাজার মানুষ ঝুলে রইল। যদি এরকমভাবেই চলতে থাকে তাহলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হবে। না হলে আদালতে যেতে হবে। আর আমি তো ২০০৫ থেকে টানা ভবানীপুর বিধানসভায় ভোট দিয়ে গেছি। আমি বাঁকুড়ার ব্যানার্জি বাড়ির ছেলে। আমাদের ১০০ বছরের কালীপুজো হয়। সেখানে যদি আমাকে প্রমাণ করতে হয় আমি রোহিঙ্গা মুসলমান কিনা। এটা খুবই দুঃখজনক।’‌