আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতির আঙিন। এবার সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। গত ৭ই এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দলের পক্ষ থেকে জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য ডেরেক ও'ব্রায়েন ভারতের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের কাছে এই মর্মে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মনোজ আগরওয়াল নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বদলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন, যা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর পরিপন্থী।

অভিযোগপত্রে গত ৫ই এপ্রিল নন্দীগ্রামে মনোজ আগরওয়ালের সফরের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, সেদিন তিনি নন্দীগ্রামের হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকাগুলো সফর করার সময় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমর্থকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন এবং তাদের মতামত জানতে চান। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, এই সফরের সময় তাঁর সঙ্গী হিসেবে দেখা গিয়েছিল বিজেপি-র কালীচরণপুর এলাকা কমিটির আহ্বায়ক তপন কুমার মহাপাত্রকে। চিঠিতে একটি ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে এই দুই ব্যক্তিকে একসাথে দেখা যাচ্ছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন উচ্চপদস্থ নির্বাচনী আধিকারিক এভাবে কোনও  রাজনৈতিক দলের নেতার সাথে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন, এটা নজিরবিহীন এবং অনভিপ্রেত।

&t=1s

তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, গত ১৫ই মার্চ ২০২৬ থেকে রাজ্যে যে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) জারি হয়েছে, সিইও-র এই পদক্ষেপ তার স্পষ্ট লঙ্ঘন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মনোজ আগরওয়ালের এই ধরণের আচরণ ভোটারদের মনে ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এটি শুধুমাত্র আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, বরং সংবিধান প্রদত্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের যে মূল চেতনা, তার ওপর আঘাত বলে মনে করছে রাজ্যের শাসক দল। সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী হিসেবে তাঁর যে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার কথা ছিল, তিনি সেখান থেকে বিচ্যুত হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, অবিলম্বে এই অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে মনোজ আগরওয়ালকে শোকজ নোটিশ পাঠাতে হবে এবং কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চাইতে হবে। শুধু তাই নয়, তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বা অযোগ্য ঘোষণা করার আর্জিও জানানো হয়েছে।  সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ঠিক মুখে একজন শীর্ষ আধিকারিককে ঘিরে এমন অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে বড়সড় বিতর্ক তৈরি করেছে, যার আঁচ এখন দিল্লির নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত পৌঁছেছে।