আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন। ভোটের মাত্র ছ’দিন আগে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ধাক্কা দিল গেরুয়া শিবির।
শুক্রবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কিছু সমর্থককে নিয়ে দল ছাড়লেন সুতি–১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সহ–সভাপতি প্রহ্লাদ ঘোষ। তাঁর সঙ্গে তৃণমূল ছাড়েন স্থানীয় তৃণমূল নেতা অখিল ঘোষ, পরিমল ঘোষ, অরিজিৎ পাণ্ডে সহ আরও কয়েকজন।
শুক্রবার তৃণমূল ত্যাগী এই নেতাদের বিজেপির পতাকা ধরিয়ে দলে বরণ করে নেন জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষ সহ বিজেপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রহ্লাদের দল ত্যাগের ফলে সুতি এবং জঙ্গিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরের শক্তি কিছুটা বাড়ল বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের মত।
বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘প্রহ্লাদ ঘোষ সহ যে সমস্ত তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে যোগদান করলেন তাঁরা ২০২১ সালের আগে আমাদের দলেই ছিলেন। পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেসের চাপে এবং অন্যান্য কিছু কারণে তাঁরা দলত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রহ্লাদ ঘোষ, পরিমল ঘোষ, অরিজিৎ পাণ্ডে সহ এলাকার পরিচিত তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য আমার কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই কারণে তাঁদের সকলকে বিজেপিতে যোগদান করানো হয়েছে।’
বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বলেন, ‘২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে গোটা রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের শক্তি বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রচুর মানুষ আমাদের দলে যোগদান করতে চাইছেন। বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলায় যে বিধানসভা আসনগুলো রয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগ আসনেই এবার বিজেপি প্রার্থীরা জিতবেন।’
তবে প্রহ্লাদ সহ অন্য তৃণমূল নেতাদের দলবদলকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। সুতি–১ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুমিত সরকার বলেন, ‘ওই ব্যক্তির নিজের এলাকাতেই কোনও গুরুত্ব ছিল না। তৃণমূল দল তাঁকে সম্মান দিয়ে পদ দিয়েছিল। ভোট এলেই বিজেপির কাছ থেকে অনেক ‘লোভনীয় অফার’ আসে। সম্ভবত সেই কারণেই প্রহ্লাদ এবং অন্য কয়েকজন দল বদল করেছেন।’
সুমিতবাবু দাবি করেন ,‘প্রহ্লাদের সঙ্গে এলাকার কোনও তৃণমূল কর্মী–সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করেননি। উনি একাই হাতে গোনা কয়েকজন লোককে নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। এই যোগদানের ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও ক্ষতি হবে না।’
সুমিতবাবু দাবি করেন, ‘বিজেপিতে যে ক’জন লোক যোগ দিয়েছেন তার থেকে বেশি লোক শুক্রবার সন্ধে নাগাদ আহিরণ–ঘোষপাড়া এলাকায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেবেন।’ ওই যোগদান সভায় বিজেপির একাধিক স্থানীয় নেতা তৃণমূলে যোগ দেবেন বলে সুমিত সরকার দাবি করেন।















