আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার আগেই এসআইআর হয়েছে বিহারে। সেখানেও বাদ পড়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম। ঠিক তার পরেই ভোটও হয়ে গিয়েছে সে রাজ্যে। একেবারে একই ছকে এসআইআর এবং তারপর নির্বাচন বাংলায়। বাংলায় নাম ডিলিট লক্ষ লক্ষ ভোটারের। বিচারাধীন বহু মানুষ এখনও। এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভের মাঝেই, এবার বিরাট অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের।
বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে একটি পোস্ট করা হয়। তাতে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বক্তব্যের একটি অংশ তুলে ধরা হয়েছে। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। তবে ওই ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, সম্রাট বলছেন, এসআইআর করে মানুষের নাম বাদ দিয়েই ক্ষান্ত হবে না গেরুয়া শিবির। একে একে তাঁদের আধার কার্ড, রেশন কার্ড বন্ধ করে দেবে। পরিকল্পনা তেমনটাই, এবং বাংলায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার আরও বড় পরিকল্পনা করছে বিজেপি, তেমনটাই অভিযোগ ঘাসফুল শিবিরের।
এই অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস লিখেছে, ‘বিহারে বিজেপির উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী দম্ভের সঙ্গে বলছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার অধীনে তারা ইতিমধ্যেই ২২ লক্ষ নাম মুছে ফেলেছে এবং তাঁদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এখন তারা তাঁদের আধার কার্ড, রেশন কার্ড, এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্সও বাতিল করছে!
এটা ভোটার তালিকা পরিষ্কার করা নয়। এটা ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত প্রতিহিংসামূলক অভিযান। আর ঠিক এটাই তারা বাংলায় আরও অনেক বড়, আরও নৃশংস আকারে ঘটানোর পরিকল্পনা করছে।’ শুধু এটুকুই নয়, সঙ্গেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে, ‘তারা ইতিমধ্যেই ‘ঘুসপেটিয়া’ নামে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে নির্বাসিত করা শুরু করেছে। আপনি হিন্দু, মতুয়া, বা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করছেন–তাতে কিছু যায় আসে না। একবার আপনার নাম মুছে গেলে, আপনি রাতারাতি একজন ‘বাংলাদেশি’ হয়ে যান।
তৃণমূল লিখেছে, ‘ডিটেনশন ক্যাম্প, পুশব্যাক বোট, পরিবার থেকে পৃথক করা, বিজেপি বাংলায় এই দুঃস্বপ্নের দিন নিয়ে আসতে চায়। তারা এখানে ক্ষমতায় এলে আপনার নাম, আপনার পরিবারের নাম এবং আপনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণরূপে তাদের দয়ার উপর নির্ভর করবে। বাংলাকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করবে, যেখানে প্রত্যেক সাধারণ নাগরিক ‘অবৈধ’ ঘোষিত হওয়ার ভয়ে ভীত থাকবে প্রতি মুহূর্তে।’
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, মনোনয়ন জমার দিনেও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির গলায় নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গ আসে। তিনি এর আগেও এসআইআর ইস্যুতে ধরনায় বসেছেন রাজপথে। এদিনও তিনি বলেন, ‘আমি ব্যথিত কারণ অসংখ্য মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। এর মধ্যে নিবিড় পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছে এবং ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর বাদ পড়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম। তাই এবার মোট বাদ পড়া ভোটারের চূড়ান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫।















