আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার একই দিনে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে অভিষেক ব্যানার্জি ও শুভেন্দু অধিকারীর সভাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকা জুড়ে। গন্ডগোলের আশঙ্কা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছিল প্রচুর পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স। এই দুই ‘হেভিওয়েট’-এর সভা ছিল চার কিলোমিটার ব্যবধানে।
নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রেয়াপাড়ায় কর্মীসভা থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নাম না করে, মমতা ব্যানার্জি ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীকে একাধিক ইস্যুতে কটাক্ষ করেন। সভা মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, “আমাদের এখানে কর্মিসভা আজ, যদিও আমরা ফাইভ স্টার হোটেল বানাতে পারিনি। যারা ‘মা-মাটি-মানুষ’ বলতেন তারা এখন ফাইভ স্টার হোটেল বানান, আকাশে ঘুরে বেড়ান, মাটিতে পা পড়ে না।”
তিনি মমতা ব্যানার্জির নাম না ধরে বলেন, “আমি গাঁয়ের পান্তা খাওয়া ছেলে। নন্দীগ্রামে আমাকে হারাতে এসেছিলেন, আমি আপনাকে হারিয়ে পাঠিয়েছি।” পাশাপাশি অতীতের ঘটনাকে টেনে এনে কটাক্ষ করে বলেন, “পা ভাঙেনি, ব্যান্ডেজ বেঁধে নাটক করে বাংলার মানুষকে টুপি পরিয়ে ছিলেন, কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষ টুপি পরেনি।” আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু জানান, “এবার আমি ভবানীপুরে যাচ্ছি, মোদিজি পাঠিয়েছেন। নন্দীগ্রামের দায়িত্ব আপনারা নিন, ভবানীপুর আমি দেখে নেব।”
এদিন কর্মসংস্থান প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের তিন হাজার যুবক মহারাষ্ট্রে কাজ করেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমার। হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ— এটাই আমাদের অঙ্গীকার।” সভা থেকে আত্মবিশ্বাসী সুরে শুভেন্দু বলেন, “মেদিনীপুরের ছেলে মাথা নীচু করে না, ডরনেওয়ালা নেহি হ্যায়।”
শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং রাজ্যে দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জির একটাই ব্যর্থতা ছিল নন্দীগ্রামে কাউন্টিং হলে লোডশেডিং আটকাতে না পারা। যদিও সেই সময় রাজ্য প্রশাসন তাঁর হাতে ছিল না। ছিল নির্বাচন কমিশনের হাতে। কিন্তু এবার কিন্তু আর সেটা হবে না। শুভেন্দু আপনি জেনে রাখুন রাজ্যের মানুষ আপনাকে যেমন ভবানীপুরে হারাবেন, তেমনি হারাবেন নন্দীগ্রামেও। কারণ তাঁরা কোনও ‘অপবিত্র’ নয়, ‘পবিত্র’ বিধায়ক চাইছেন।”
