আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্ষমতা হারিয়েছেন এক দশকের বেশি সময় আগে। নির্বাচনে ক্রমাগত চলছে রক্তক্ষয়। রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার এই কঠিন লড়াইয়ে যখন বামফ্রন্টের শরিক দলগুলোর এক হওয়ার কথা, ঠিক তখনই উল্টো ছবি ধরা পড়ল মালদহে। বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই চরম অসন্তোষ দানা বেঁধেছে মালদহ বিধানসভা কেন্দ্রে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রার্থী বদল না করা হলে গণ ইস্তফার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিপিইএম নেতা-কর্মীদের একাংশ।
ঘটনার সূত্রপাত মালদহ বিধানসভা আসনটি শরিক দল সিপিআই-কে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে। এবার এই কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই প্রার্থী হিসেবে দীপক বর্মণের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় সিপিইএম কর্মীরা। এক সিপিএম কর্মীর সাফ কথা, "যাদের চারগাছা লোক নেই, যারা সারা বছর কোনও লড়াই-আন্দোলনে থাকে না, ভোটের সময় তাদের কেন আসন ছেড়ে দেওয়া হবে?"
মঙ্গলবার রাতে এই ক্ষোভের এক নজিরবিহীন বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় পুরোনো মালদহ এলাকায়। দেখা গিয়েছে, সিপিইএম কর্মীরা দেওয়াল লিখন করছেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে প্রার্থীর নাম রাখার জায়গাটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে দীপক বর্মণকে সরিয়ে এই কেন্দ্রে সিপিইএম-এর কোনও প্রার্থীকে দাঁড় করাতে হবে।
&t=1sনিচু তলার কর্মীদের এই বিদ্রোহের আঁচ লেগেছে জেলা সিপিএমের অন্দরেও। দলের একাংশের স্পষ্ট অভিযোগ, সারা বছর মাঠে-ময়দানে রক্ত ঝরিয়ে সংগঠন করবেন তাঁরা, আর জোটের খাতিরে সেই ফসল ঘরে তুলবে শরিকরা— এটা আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ক্ষোভের তির শুধু সিপিআই নয়, ফ্রন্টের অন্য দুই শরিক আরএসপি ও ফরওয়ার্ড ব্লকের দিকেও। তাঁদের প্রশ্ন, যাদের নিজেদের কোনো জনভিত্তি নেই, তাদের কেন ‘মাথায় তুলে’ রাখা হবে? সিপিএম-এর কাঁধে ভর করে আসন দখল করার এই নীতি নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন কর্মীরা।
স্থানীয় এক সিপিএম সমর্থকের কথায়, "মালদহ বিধানসভায় সিপিআই-এর কোনও সাংগঠনিক অস্তিত্বই নেই। আমরা খেটে মরব আর ওরা এসে প্রার্থী দেবে, এটা হতে পারে না। অবিলম্বে প্রার্থী বদল না হলে আমরা পার্টির সদস্য পদ থেকে গণ ইস্তফা দেব।"
এখনও পর্যন্ত এই বিদ্রোহী মনোভাব নিয়ে জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রতিক্রিয়া মেলেনি সিপিআই দলের তরফেও। তবে একুশের নির্বাচনের আগে যেখানে বামেদের পাখির চোখ হারানো জমি পুনরুদ্ধার করা, সেখানে নিজেদের ঘরের এই বিবাদ যে জোটের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, নিচু তলার কর্মীদের এই ক্ষোভ সামাল দেওয়া এখন আলিমুদ্দিনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
