আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় রাজনীতির পারদ চড়ছে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই। প্রার্থী নাম ঘোষণার পর, পারদ যে আরও চড়বে, তা বোঝা গিয়েছিল বিলক্ষণ। হলও তাই। তবে কোন দলে কে প্রার্থী হচ্ছেন, এই প্রসঙ্গে, সবথেকে নজর কাড়ছে পানিহাটি কেন্দ্র। বিজেপি এখনও ওই কেন্দ্রের প্রার্থী নাম ঘোষণা না করলেও, আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতা, নিহত অভয়ার বাবা জানিয়েছেন, অভয়ার মা প্রার্থী হচ্ছেন। প্রার্থী হচ্ছেন, মেয়ের বিচার ছিনিয়ে নিতে, প্রার্থী হচ্ছেন রাজ্যের নারীদের সুরক্ষায়। অন্যদিকে পানিহাটিতেই প্রার্থী কলতান। বাম নেতা কলতান দাশগুপ্ত। আরজি কর কাণ্ডে পথে থেকেছেন দিনের পর দিন। 

তবে বিষয় এতটুকু নয়। অভয়ার বাবা রীতিমতো আক্রমণ শানিয়েছেন বাম নেতাদের উদ্দেশে। আরজি কর কাণ্ডের সময়, এই বাম নেতারাই সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত রাস্তায় থেকেছেন, জন জোয়ার পথে নামিয়ে স্লোগান তুলেছেন। বিচার ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু একেবারে ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে কী বলছেন খোদ অভয়ার বাবা? 

সংবাদমাধ্যমের  মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'রাজ্যের বিজেপি ছাড়া বাকি বিরোধী দলগুলির অবস্থা এত দুর্বল, তাদের নির্দিষ্ট কোনও গাইডলাইন নেই। তাদের কেবল ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা।' তারপরেই বামেদের সরাসরি নিশানা করে অভয়ার বাবা বলেন, 'কলতান যখন এসেছিল, বারবার বলেছি, আমার মেয়ের মৃত্যুর উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে দেব না। কিন্তু তারা সেই এই জায়গাটাই তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সেই জায়গাটার বিরোধিতা করতে গিয়েই আমরা রাজনীতিতে আসতে বাধ্য হলাম।' সঙ্গেই তিনি বলেন, 'বামপন্থী দলগুলি আন্দোলন করেছে। বিচারের জন্য কী করেছে। বিচার যাতে আমরা না পাই, সেই কাজটা করেছে। বিচার যাতে সহজ হয়, আমরা পাই, সেই কাজটা করেনি। এখনও তারা বিরোধিতা করে যাচ্ছে, বাধা দিয়ে যাচ্ছে। বিচার যাতে না মেলে। ৩৪ বছর ধরে বামপন্থীরা রাজ্যকে যে পরিস্থিতি দিয়ে গিয়েছে, পরবর্তীকালে তারাই ভোটকাটাকাটির অঙ্কে, তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনে রাজ্যকে সেই অবস্থায় রেখেছে।' 

স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা। চর্চা সোশ্যাল মিডিয়াতেও। এই পরিস্থিতিতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল সেই সময়ের আন্দোলনের দুই মুখ, দুই বাম নেতা, কলতান এবং সৃজনের সঙ্গে। কলতান দাশগুপ্ত জানাচ্ছেন, 'যখন রাত দখল হয়েছিল তখন কিন্তু আমরা এবং লাখো মানুষ কেউ রাজনীতির রঙ দেখে যাইনি। সবাই গিয়েছিলেন, যাতে আর একটা অভয়া না হয়, আরেকটা আসিফ বানো, আরেকটা তমন্না না হয়। ওরা রাজীনীতিতে যুক্ত হন কোনও অসুবিধা নেই নেই, কিন্তু রাজনীতির লোকদের কিন্তু মানুষের কাছে জবাব দিতে হয়।' কলতান বলছেন, 'আমরা অভয়ার বিচারের লড়াইয়ে আছি। থাকব।'

অন্যদিকে এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলছেন, ' ওঁদের মেয়ের নৃশংশ ধর্ষণ,খুনের ঘটনার বিচারের দাবিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ দিনের  পর দিন দল মত নির্বিশেষে রাস্তায় থেকেছে। সব দেখে, শুনে ওঁদের একটা নির্দিষ্ট পথ বেছে নেওয়া মনে হতে পারে। আমি তা নিয়ে ওঁদের কথার প্রেক্ষিতে কিছু বলব না। কিন্তু, তখন যে লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে নেমেছিল, তাঁরা যে সকলেই সিপিএম-এর মানুষ ছিলেন, এমনটা নয়। কিন্তু আমরা বিজেপিকে ঘেঁষতে দিইনি, কারণ আমাদের সামনে হাসরথ, কাঠুয়ার উদাহরণ রয়েছে। আমরা দেখেছি মহিলাদের সম্ভ্রমের বিষয়ে বিজেপির ভূমিকা কী।' 

সঙ্গেই সৃজন বলেন, 'আমি বিনীত ভাবে ভেবে দেখতে অনুরোধ করব, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কেন এখনও এমকটা দিন সময় দিলেন না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি যে বললেন ১৪ আগস্টের ঘটনার প্রেক্ষিতে, তাঁর কর্ম জীবনে পুলিশের এমন নক্ক্যারজনক অবস্থান দেখেননি। তারপরেও সন্দীপ ঘোষ, টালা থানার ওসিদের বিরুদ্ধে সিবিআইকে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে টেনে ধরল কে?, বামেদের দোষ দেওয়া সহজ, নরম মাটি আঁচড়ানো সহজ। সন্তনাহারা মায়ের  প্রতি শোকাতুর আমি। তাই এই দুই প্রশ্ন ছাড়া আমার কিছু বলার নেই।'