আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের কোচবিহারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৫ এপ্রিল কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা ময়দানে জনসভা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জনসভাকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করতে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। জনসভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই রাসমেলা ময়দান পরিদর্শনে আসেন বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এবং কৈলাশ চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ বর্মন এবং স্থানীয় নেতৃত্ব।
মাঠ পরিদর্শনের পর জেলা সভাপতি জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা ঘিরে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, কোচবিহার থেকেই পরিবর্তনের বার্তা সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই সভা থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিসর্জন’ শুরু হবে বলে তাঁদের আশা।
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সভাকে ঘিরে বিশাল জনসমাগমের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ যাতে সহজে সভাস্থলে পৌঁছতে পারেন, তার জন্য পরিবহণ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য লজিস্টিক ব্যবস্থার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বুথস্তর পর্যন্ত কর্মীদের সক্রিয় করে তোলার কাজও জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই এই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে এই জনসভাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে কোচবিহারের মতো জেলায় বড় জনসভা করে ভোটের আগে বার্তা দিতে চাইছে তারা।
এখন দেখার বিষয়, ৫ এপ্রিলের এই জনসভায় জনসমাগম কতটা হয় এবং তা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে এই সভা যে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
















