আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটে লড়তে চেয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তাতেই মিলল সাড়া। রবিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন কামদুনির প্রতিবাদী টুম্পা কয়াল। 

২০১৩ সালে কামদুনির এক কলেজ গণধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য। সেই কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল, মৌসুমী কয়াল। রাজনীতি ছাড়া আন্দোলন করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার বলে জানিয়েছিলেন প্রতিবাদী টুম্পা কয়াল। সেই কারণেই তিনি রাজনীতির ময়দানে পা রাখতে আগ্রহী ছিলেন।

রবিবার লকেট চ্যাটার্জির হাত থেকে পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নেন টুম্পা। বিজেপিতে যোগ দিয়ে টুম্পা কয়াল বলেছেন, "২০১৩ সাল থেকে বিজেপি আমাদের সঙ্গে ছিল। হাইকোর্টে যখন আমরা নিরাশ হয়েছিলাম তখন বিজেপি দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টে যেতে সাহায্য করেছিল। রাজ্যের নারীদের সুরক্ষা এবং দুর্নীতি দমনে বিজেপিই সেরা।"  

ভোট ঘোষণার পর কামদুনির অন্যতম প্রতিবাদী টুম্পার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার খবর সামনে আসে। তিনিই জানিয়েছিলেন যে, গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে চেয়ে তিনি নিজে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে আবেদন করেছিলেন। বলেছিলেন, "ভোটে লড়তে চেয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর দ্বারস্থ হয়েছি। ১২ বছর হয়ে গিয়েছে। এখন আমি ভাবছি যেকোনও একটা রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এসে আন্দোলন করব এবং মানুষের পাশে দাঁড়াব। সেই কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বিজেপিতে যোগদান করব। ব্যক্তিগত দিক থেকে আমি অনেকটাই দেরি করে ফেলেছি। এখন জানি না দল কী করবে। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেই সিদ্ধান্তই আমাকে মেনে নিতে হবে। কারণ, আমি তো অনেক শেষে এসেছি। সেটা দল যেটা মনে করবে সেই সিদ্ধান্ত হবে।"

অবশেষে বিজেপি নেতৃত্ব টুম্পার আবেদনে সাড়া দিলেন। সবুজ সংকেত পেয়েই রবিবার টুম্পা যোগ দিলেন বিজেপিতে। এখন দেখার, তাঁরে প্রার্থী করা হয় কিনা।

২০১৩ সালের ৭ জুন, রাজারহাটের ডিরোজিও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী বাড়ি ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হন। গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এক জমিতে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার পর ৯ জন গ্রেপ্তার হয়। যদিও দশ বছর পর ২০২৩ সালে আসামীদের ফাঁসির সাজা রদ করে কলকাতা হাইকোর্ট। দু'জনের যাবজ্জীবন এবং চারজনকে বেকসুর খালাস করা হয়। এরপরই রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার ও কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার।

টুম্পা কয়াল ছাড়াও রবিবার বিজেপিতে যোগদান করেন অধ্যাপক প্রবীন কুমার সিং এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক (জয়েন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, আইবি)  শর্বরী ভট্টাচার্য। গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে শর্বরী ভট্টাচার্য বলেন, "বর্তমানে পুলিশের যে ভূমিকা তা খুব দুঃখজনক। আমি অনেকদিনের ১৯৯৮ থেকে তৃণমূলস্তরে কাজ করেছি। পুলিশের কোন ভূমিকা এখন দেখতে পাইনি। পুলিশ ডিপার্টমেন্ট বলে নয় পুরোটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। সমস্ত জায়গায় সাংঘাতিক ডিটোরিয়েশিয়ান হচ্ছে। তাই আমার মনে হয় পাল্টানো দরকার। আমি যেখানে থাকি তার চারিপাশের সমস্ত ছেলে-মেয়ে বাইরে চলে যাচ্ছে। বাবা মা একা একা থাকছে। আমি চাইছি রাজ্য থেকে যে সমস্ত শিল্প চলে গিয়েছে সব যদি ফিরিয়ে আনা যায়। বিজেপিতে যোগদান করেছি একটাই কারনে, আমি অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকে ছিলাম গ্রাসরুট থেকে কাজ করেছি। এজন্য যতটুকু ক্ষমতা আছে বিজেপির পতাকা ধরে গ্রাসরুট থেকে কাজ করব।"