আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র আবারও রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল। শনিবার রাতে নির্বাচনী পথসভা করতে গিয়ে আইএসএফ (ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট)-এর প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকির গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতের দিকে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পালপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন নওশাদ সিদ্দিকি। এলাকায় একটি পথসভা চলাকালীন হঠাৎই কয়েকজন দুষ্কৃতী বাইকে করে সেখানে এসে উপস্থিত হয়। অভিযোগ, তারা আচমকা নওশাদ সিদ্দিকির গাড়িকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়তে শুরু করে। এই হামলায় গাড়ির সামনের ও পাশের কাঁচ ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীদের দিকে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই হামলার পিছনে যারা রয়েছে, তাদের ১০ মিনিটের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।” তাঁর এই কড়া মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এরপরেই আইএসএফের কর্মী-সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েন। দীর্ঘক্ষণ ধরে অবরোধ চলার ফলে স্থানীয় প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
আইএসএফের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে যাতে বিরোধী প্রার্থীদের প্রচার ব্যাহত করা যায় এবং এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা যায়। আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, এটি গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, আইএসএফ নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য এই ধরনের নাটক সাজাচ্ছে। তৃণমূলের একাংশ নেতাদের মতে, নির্বাচনের আগে সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যে এই ধরনের ঘটনা প্রচার করা হচ্ছে।
ঘটনার পরেই পুলিশ নড়েচড়ে বসে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার জন্য আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এই ঘটনার পর ভাঙড়ের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ উঠছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং তারা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাঙড় বরাবরই স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে নির্বাচনের সময় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রতিবারই এই ধরনের সংঘর্ষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। প্রশাসনের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, নওশাদ সিদ্দিকির গাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙড়ের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।















