আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলা এখন 'ফিফটি ফিফটি'! এভাবে আড়াআড়ি জনমত ভাগ হয়ে যাওয়া বহুকাল দেখেনি এই রাজ্য। আবার বাংলা মানেই নানা স্বাদের 'মিষ্টি'। বাজারে ঘুরে বেড়ানো জল্পনা আর 'প্রেডিকশন'- এর ধাক্কা এসে পৌঁছেছে মিষ্টির দোকানেও। এমনিতেই বর্ধমানের মিষ্টির সুনাম আছে। বি সি রোডের দোকান ভিন্ন ভিন্ন উপলক্ষে বিশেষ বিশেষ মিষ্টি বানায়। 

 

টানটান এই উত্তেজনার মধ্যে মিষ্টি সংবাদ এটাই, বাজারে দু'রকম মিষ্টিই বিক্রি হচ্ছে। অর্ডার আছে ভালই। আছে সবুজ সন্দেশ, রসগোল্লা। পাশেই গেরুয়া সন্দেশ, রসগোল্লা। দামও সমান। সবটাই ১০ টাকা 'পিস'। বিক্রিও হচ্ছে ভালই। বিক্রেতা উৎপল দত্ত জানান, কাল থেকে দুরকম মিষ্টিই সাজানো আছে। এই থ্রিল আর টেনশনের দিনে লড়াই মিষ্টিতেও চলুক। মিষ্টিমুখেই। দোকানদারদের দাবি এটাই। 

 

বর্ধমান মানেই সীতাভোগ-মিহিদানার শহর, কিন্তু বর্তমানের রাজনৈতিক উত্তাপ সেই ট্র্যাডিশনাল স্বাদেও নতুন রং লাগিয়ে দিয়েছে। সামনেই নির্বাচনের ফলাফল বা কোনও বড় রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ, আর সেই 'ফিফটি-ফিফটি' লড়াইয়েরই আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়েছে বর্ধমানের মিষ্টির থালায়।

 

দেখা যাচ্ছে, চায়ের ঠেক থেকে ড্রয়িং রুম—সব জায়গাতেই এখন কেবলই প্রেডিকশন আর পাল্টাপাল্টি যুক্তির লড়াই। কিন্তু এই টানটান উত্তেজনার আবহে বর্ধমানের বিখ্যাত বি সি রোডের মিষ্টির দোকান চমক সৃষ্টি করল। ভোট-পলিটিক্সের ‘থ্রিল’ আর ‘টেনশন’ এবার চার দেওয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেল রসগোল্লা আর সন্দেশের থালায়,গামলায়। 

 

এবারের বিশেষ আকর্ষণ কোনও সাবেকি মিষ্টি নয়, বরং রাজনৈতিক রঙের ছোঁয়া লাগা বিশেষ রসগোল্লা ও সন্দেশ। দোকানে সাজানো রয়েছে:

সবুজ রসগোল্লা ও সন্দেশ

গেরুয়া রসগোল্লা ও সন্দেশ।

 

মিষ্টির দোকানে গিয়ে দেখা গেল, দুই রঙের মিষ্টিই সমান তালে পাল্লা দিচ্ছে। কার পাল্লা ভারী, তা বোঝা দায়।

মজার বিষয় হল, রাজনীতির ময়দানে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি থাকলেও মিষ্টির বাজারে কিন্তু ভেদাভেদ নেই। জানা গিয়েছে, দুই রঙের মিষ্টিরই অর্ডার আসছে খুব ভাল। মানুষজন বেশ মজা করেই কিনছেন। 

মিষ্টিমুখেই হোক রফাসূত্র, আমজনতার দাবি এটাই। জয় যাঁর হোক বা হার যাঁর হোক, শেষ পর্যন্ত এই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকুক মিষ্টির স্বাদেই।